আমতলী চৌরাস্তার দখল হওয়া ট্রাফিক পুলিশ বক্স ১৭ বছরেও উদ্ধার হয়নি, ঝুঁকিতে জনগন
- প্রকাশের সময় : ০৭:৩৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / 8 বার পড়া হয়েছে
বরগুনার আমতলী পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাঁধঘাট চৌরাস্তায় দখল হয়ে যাওয়া ট্রাফিক পুলিশ বক্সটি ১৭ বছরেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ মোড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের। বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভাসহ বিভিন্ন সভায় উত্থাপন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
নামেই প্রথম শ্রেণির পৌরসভা—এমন মন্তব্য স্থানীয়দের। তাঁদের অভিযোগ, আমতলী পৌর শহরে নাগরিক সুবিধা অপ্রতুল। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্স না থাকা, যানজট নিরসনে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা এবং অন্যান্য নাগরিক সেবার ঘাটতি নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।
আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট চৌরাস্তা ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। এ পথ দিয়ে প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। স্থানীয় যানবাহনের পাশাপাশি দূরপাল্লার পরিবহনের চাপ থাকায় এ মোড়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশকে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতে হয়।
কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ট্রাফিক পুলিশ বক্সটি ব্যবহার করতে না পারায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। রোদ, বৃষ্টি ও ঝড় উপেক্ষা করে সড়কে দাঁড়িয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হচ্ছে তাঁদের। বক্স না থাকায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও সরঞ্জাম সংরক্ষণ এবং দায়িত্ব পালনের ফাঁকে নিরাপদে অবস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে এ মোড়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা ও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ট্রাফিক পুলিশের কর্মপরিবেশ উন্নত করতে দ্রুত দখল হওয়া জায়গাটি উদ্ধার করে সেখানে নতুন করে ট্রাফিক পুলিশ বক্স নির্মাণ করতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও আমতলী শহরের সড়ক ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের ঘাটতি রয়েছে। শহরের সড়কগুলোতে একমুখী যান চলাচলের ব্যবস্থা ও গোলচত্বর নেই। মশা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ ছিটানোসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবাও নিয়মিত ও পর্যাপ্ত নয় বলে তাঁদের দাবি।
আমতলী ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই নারায়ণ চন্দ্র মিত্র বলেন, “আমতলী চৌরাস্তায় একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্স স্থাপন করা হলে আমাদের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে ট্রাফিক পুলিশের সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।”
ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর সঞ্জীব মিত্র বলেন, বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জনস্বার্থ ও সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। দখল হওয়া জায়গাটি উদ্ধার করে সেখানে ট্রাফিক পুলিশ বক্স নির্মাণ করা হলে একদিকে যেমন পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন সহজ হবে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক মোড়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাও আরও কার্যকর হবে।





















