ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চার ফুট উচ্চতাতেই স্বপ্নজয়ের লড়াই আল-আমিনের নতুন দায়িত্বে শিবা শানু, পেলেন অতিরিক্ত সচিবের মর্যাদা শৈশবেই যৌন হয়রানির শিকার, এতদিন পর মুখ খুললেন অভিনেত্রী মাদরাসার থাপ্পড়কাণ্ড গড়াল হাইকোর্টে, রুমিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ কালীগঞ্জে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন ঘোড়াশাল ফুটবল ক্লাব শিক্ষক ১১ জন, অথচ ১২ শিক্ষার্থীর কেউই দেয়নি পরীক্ষা! এমপি পুত্র সাদমান গ্রেপ্তার শ্রীমঙ্গলে দস্যুতার মামলার প্রধান ৩ আসামি গ্রেপ্তার স্বর্ন ও মোবাইল উদ্ধার কালীগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, হামলার অভিযোগ চাচতো ভাইদের বিরুদ্ধে

চার ফুট উচ্চতাতেই স্বপ্নজয়ের লড়াই আল-আমিনের

নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৪৪:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / 7 বার পড়া হয়েছে

শারীরিক উচ্চতা প্রায় চার ফুট। বয়স ৩২ পেরিয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে আসেন তিনি। মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করে চালান সংসার। স্ত্রী ও বাবা-মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্বও পালন করছেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রায় ১৬ বছর ধরে এ পেশায় যুক্ত রয়েছেন মোহাম্মদ আল-আমিন। অন্যের দোকানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন তার স্বপ্ন নিজের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার।

আল-আমিনের বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলার ছাওয়ালপাড়া গ্রামে। ২০১০ সাল থেকে মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করছেন তিনি। আগে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় কাজ করতেন। বর্তমানে পাঁচবিবি উপজেলার তিনমাথা সুপার মার্কেটের একটি দোকানে কাজ করছেন। প্রতিদিন বাড়ি থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে আসেন। মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি পান। এই আয় দিয়েই পরিবারের খরচ চালানোর পাশাপাশি স্ত্রী ও বাবা-মায়ের দেখাশোনা করেন তিনি।

আল-আমিন বলেন, জীবনের শুরুর দিকে অনেক কষ্টের মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। তবে এখন আল্লাহর রহমতে কাজ করে ভালো আছেন। কারও কাছে হাত না পেতে নিজের পরিশ্রমের উপার্জনে বেঁচে থাকতে চান তিনি। তার বিশ্বাস শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও ইচ্ছাশক্তি ও কাজের দক্ষতা থাকলে নিজের পায়ে দাঁড়ানো সম্ভব।

আল-আমিন আরও বলেন, আমি বলতে চাই আমার মতো যাঁরা আছেন তারা যেন কারও কাছে হাত না পেতে নিজেদের কর্মের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। আমার হাত আছে আমি হাত দিয়ে কাজ করে খাব। দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করছেন তিনি। এখন নিজের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ইচ্ছা রয়েছে। নিজের কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আরও ভালোভাবে পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে চান তিনি।

আল-আমিনের দোকানমালিক শয়ন চৌধুরী বলেন, আল-আমিন খুব ভালো ছেলে। সে কাজও ভালো করে। তার শারীরিক গড়ন দেখে নয়, কাজের দক্ষতা দেখেই তাকে দোকানে নিয়েছি। মোবাইল মেরামতের কাজে সে অনেক পারদর্শী। প্রতিদিন কাজের মজুরি হিসেবে তাকে ৫০০ টাকা দিই। সে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে।

দোকান স্টাফ খাইরুল হোসেন বলেন, আল-আমিনের কাজের মান অনেক ভালো। সে অল্প সময়ের মধ্যেই সবার সঙ্গে মিশতে পারে। কাজের প্রতি তার মনোযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ পেশায় কাজ করায় তার অভিজ্ঞতাও ভালো।

মোবাইল ফোন মেরামত করতে আসা গ্রাহক আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রথমে তাকে দেখে মনে হয়নি তার বয়স এত বেশি। আমার ফোনে চার্জিংয়ের সমস্যা ছিল। প্রথমে ভয়ে ছিলাম সে কাজ করতে পারবে কিনা। পরে সে দ্রুত সমস্যাটি সমাধান করে দেয়। তার কাজের মান ভালো। কাজ দেখে বুঝেছি সে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ।

প্রায় ১৬ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন আল-আমিন। সীমিত আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি একদিন নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চান।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

চার ফুট উচ্চতাতেই স্বপ্নজয়ের লড়াই আল-আমিনের

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৪:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

শারীরিক উচ্চতা প্রায় চার ফুট। বয়স ৩২ পেরিয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে আসেন তিনি। মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করে চালান সংসার। স্ত্রী ও বাবা-মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্বও পালন করছেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রায় ১৬ বছর ধরে এ পেশায় যুক্ত রয়েছেন মোহাম্মদ আল-আমিন। অন্যের দোকানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন তার স্বপ্ন নিজের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার।

আল-আমিনের বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলার ছাওয়ালপাড়া গ্রামে। ২০১০ সাল থেকে মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করছেন তিনি। আগে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় কাজ করতেন। বর্তমানে পাঁচবিবি উপজেলার তিনমাথা সুপার মার্কেটের একটি দোকানে কাজ করছেন। প্রতিদিন বাড়ি থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে আসেন। মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি পান। এই আয় দিয়েই পরিবারের খরচ চালানোর পাশাপাশি স্ত্রী ও বাবা-মায়ের দেখাশোনা করেন তিনি।

আল-আমিন বলেন, জীবনের শুরুর দিকে অনেক কষ্টের মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। তবে এখন আল্লাহর রহমতে কাজ করে ভালো আছেন। কারও কাছে হাত না পেতে নিজের পরিশ্রমের উপার্জনে বেঁচে থাকতে চান তিনি। তার বিশ্বাস শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও ইচ্ছাশক্তি ও কাজের দক্ষতা থাকলে নিজের পায়ে দাঁড়ানো সম্ভব।

আল-আমিন আরও বলেন, আমি বলতে চাই আমার মতো যাঁরা আছেন তারা যেন কারও কাছে হাত না পেতে নিজেদের কর্মের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। আমার হাত আছে আমি হাত দিয়ে কাজ করে খাব। দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করছেন তিনি। এখন নিজের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ইচ্ছা রয়েছে। নিজের কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আরও ভালোভাবে পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে চান তিনি।

আল-আমিনের দোকানমালিক শয়ন চৌধুরী বলেন, আল-আমিন খুব ভালো ছেলে। সে কাজও ভালো করে। তার শারীরিক গড়ন দেখে নয়, কাজের দক্ষতা দেখেই তাকে দোকানে নিয়েছি। মোবাইল মেরামতের কাজে সে অনেক পারদর্শী। প্রতিদিন কাজের মজুরি হিসেবে তাকে ৫০০ টাকা দিই। সে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে।

দোকান স্টাফ খাইরুল হোসেন বলেন, আল-আমিনের কাজের মান অনেক ভালো। সে অল্প সময়ের মধ্যেই সবার সঙ্গে মিশতে পারে। কাজের প্রতি তার মনোযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ পেশায় কাজ করায় তার অভিজ্ঞতাও ভালো।

মোবাইল ফোন মেরামত করতে আসা গ্রাহক আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রথমে তাকে দেখে মনে হয়নি তার বয়স এত বেশি। আমার ফোনে চার্জিংয়ের সমস্যা ছিল। প্রথমে ভয়ে ছিলাম সে কাজ করতে পারবে কিনা। পরে সে দ্রুত সমস্যাটি সমাধান করে দেয়। তার কাজের মান ভালো। কাজ দেখে বুঝেছি সে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ।

প্রায় ১৬ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন আল-আমিন। সীমিত আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি একদিন নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চান।