ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ ছাত্র আরিফ ১৮ দিনেও মিলেনি সন্ধান বসুন্ধরা শুভ সংঘের বিভাগীয় সম্মেলনে সম্মানিত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান প্রবাসীর স্ত্রীকে ভিডিওর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, গ্রেপ্তার মাদরাসাশিক্ষক শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরেক মামলা, তদন্তে সিআইডি বদরগঞ্জে ট্রেন দুর্ঘটনা, লাইনচ্যুত চার চাকা; কারণ অজানা অটোরিকশা চুরির অভিযোগে উত্তেজনা, গণপিটুনিতে প্রাণ গেল দুজনের ১৫ বছরের নিচে নো সোশ্যাল মিডিয়া! গ্রিসের ঐতিহাসিক আইন মামলা নিয়ে রুমিনের স্পষ্ট বার্তা, ‘প্রধান আসামি আমাকে করবেন’ কালীগঞ্জে জাগলীয়া জায়ান্টস ক্লাবের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত আমি এখন বিএনপি নেতা’—সাংবাদিককে বললেন ইউএনও

জন্মের পর থেকে দেখি কাঁদা,পাকা রাস্তা কি স্বপ্ন!

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
  • / 306 বার পড়া হয়েছে

জন্মের পর থেকে দেখি কাঁদা,পাকা রাস্তা কি স্বপ্ন!

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের শংকরপুর থেকে বালিচিরি পর্যন্ত মাত্র দেড় কিলোমিটার রাস্তা এখনও কাঁচা। বছরের পর বছর অবহেলিত এই রাস্তাটি আজ স্থানীয়দের কাছে ‘মরণফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশেষে দুর্ভোগের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে এলাকাবাসী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

গত সোমবার (১৪ই জুলাই) সকালে শংকরপুর এলাকায় তরুণ সমাজকর্মী আব্দুল মুস্তাকিম তানিমের সঞ্চালনায় এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশ নেয় শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা,অভিভাবক এবং বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে ছিলো ব্যতিক্রমধর্মী স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড;

“শিক্ষার পথে কাঁদা কেন?”

“জন্ম থেকে দেখি কাঁদা, পাকা রাস্তা কি শুধু স্বপ্ন?”

“চলা যায় না,যাওয়া যায় না,এমন রাস্তায় ভোট হয় না!”

“শুধু নির্বাচনের আগে রাস্তা মাপা হয়,তারপর ভুলে যায়!”

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য জমসেদ আলী,ময়নুল হক পবনসহ একাধিকজন মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন,রাস্তাটি উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথ, অথচ বর্ষায় এটি ভয়ানক কাদা ও জলাবদ্ধতায় অচল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন স্কুলে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রোগী পরিবহনেও দেখা দিচ্ছে বিপর্যয়।

এক শিক্ষার্থী কাঁদতে কাঁদতে বলে,“বৃষ্টি হলে রাস্তায় পা পিছলে পড়ে যাই। আমরা ছোট বলে কি আমাদের কষ্ট কেউ দেখবে না?”

এ নিয়ে কথা বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিনও। তিনি জানান,“এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্মারকলিপি পেয়েছি। উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।”

দীর্ঘদিনের অবহেলা আর প্রতিশ্রুতির জালে বন্দী এই কাঁচা রাস্তাটি অবশেষে আলোচনায় এসেছে। তবে বাস্তবে উন্নয়ন না হলে এলাকাবাসী আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

জন্মের পর থেকে দেখি কাঁদা,পাকা রাস্তা কি স্বপ্ন!

প্রকাশের সময় : ০৪:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

জন্মের পর থেকে দেখি কাঁদা,পাকা রাস্তা কি স্বপ্ন!

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের শংকরপুর থেকে বালিচিরি পর্যন্ত মাত্র দেড় কিলোমিটার রাস্তা এখনও কাঁচা। বছরের পর বছর অবহেলিত এই রাস্তাটি আজ স্থানীয়দের কাছে ‘মরণফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশেষে দুর্ভোগের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে এলাকাবাসী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

গত সোমবার (১৪ই জুলাই) সকালে শংকরপুর এলাকায় তরুণ সমাজকর্মী আব্দুল মুস্তাকিম তানিমের সঞ্চালনায় এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশ নেয় শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা,অভিভাবক এবং বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে ছিলো ব্যতিক্রমধর্মী স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড;

“শিক্ষার পথে কাঁদা কেন?”

“জন্ম থেকে দেখি কাঁদা, পাকা রাস্তা কি শুধু স্বপ্ন?”

“চলা যায় না,যাওয়া যায় না,এমন রাস্তায় ভোট হয় না!”

“শুধু নির্বাচনের আগে রাস্তা মাপা হয়,তারপর ভুলে যায়!”

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য জমসেদ আলী,ময়নুল হক পবনসহ একাধিকজন মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন,রাস্তাটি উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথ, অথচ বর্ষায় এটি ভয়ানক কাদা ও জলাবদ্ধতায় অচল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন স্কুলে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রোগী পরিবহনেও দেখা দিচ্ছে বিপর্যয়।

এক শিক্ষার্থী কাঁদতে কাঁদতে বলে,“বৃষ্টি হলে রাস্তায় পা পিছলে পড়ে যাই। আমরা ছোট বলে কি আমাদের কষ্ট কেউ দেখবে না?”

এ নিয়ে কথা বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিনও। তিনি জানান,“এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্মারকলিপি পেয়েছি। উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।”

দীর্ঘদিনের অবহেলা আর প্রতিশ্রুতির জালে বন্দী এই কাঁচা রাস্তাটি অবশেষে আলোচনায় এসেছে। তবে বাস্তবে উন্নয়ন না হলে এলাকাবাসী আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।