ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নবীনগরে সংঘর্ষে আহত ব্যক্তির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু কালীগঞ্জে বসত বাড়িতে হামলা, ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ কালীগঞ্জে গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতনতা মূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের চাল বিতরণ জনসমর্থনের জোয়ারে ভাসছেন আতিকুর রহমান শিশু, দিলেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি কালীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও র‌্যালি  কালীগঞ্জে চালক ও যাত্রী ছদ্মবেশী ছিনতাইকারী আটক, উদ্ধার স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে স্টাফদের ওপর হামলা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী গ্রেপ্তার সারাদেশে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের অবস্থান সপ্তম

তরুণ উদ্যোক্তা নাঈমের সাফল্য

ফজলে রাব্বি
  • প্রকাশের সময় : ০৭:২৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪
  • / ৫৭৩ বার পড়া হয়েছে
৩৬৫

দেশব্যাপী খ্যাতি রয়েছে রংপুরের হাড়িভাঙা আমের। আর সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষা এই দুই ঋতুতে আমের ফলন হয়।

কিন্তু আমগুলো ফরমালিনমুক্ত নাকি যুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে অনেকের। তাই সারাদেশে ফরমালিনমুক্ত আম সরবরাহের উদ্যোগ নেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ উদ্যোক্তা মুজতাবা ফয়সাল নাঈম । উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প প্রতিদিনের পোস্ট প্রতিনিধির সাথে শেয়ার করেন তিনি।
” বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আমি খুবই হতাশ হয়ে পড়ি। বাবা বেঁচে নেই। শুরুতে প্রচুর লড়াই করতে হয় নিজের সঙ্গে। এ লড়াই ছিল টিকে থাকার লড়াই। টিউশন করে যে টাকা পেতাম তা দিয়ে নিজের খরচ বহন করা অনেক কঠিন ছিল। পরিবারও বেশ সংকট ছিল।
ভাবতে থাকি, ঠিক এই মুহূর্তে কী করা যায়? পরে ফেসবুকে মার্কেটিং করলাম। তবে সেই ফেসবুকের মার্কেটিং থেকে কিছু আম বিক্রি হত। যা থেকে কিছু লাভ হত। এই লাভ থেকেই তহবিল গঠন করলাম। লাভের সম্পূর্ণ অংশ বিনিয়োগ করে দিনে দিনে বিজনেসের পরিধি বাড়িয়েছি। বর্তমানে আমার বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এবং সারাদেশের বেশকিছু সচেতন ক্রেতা আমাদের থেকে আম ক্রয় করেন।
আমরা সবসময় বাছাইকৃত বিশুদ্ধ আম সরবরাহ করার চেষ্টা করেছি। এজন্য একজন ক্লায়েন্টের কাছ থেকে অনেকবার অর্ডার পেয়েছি। গতবার প্রায় ১৬০০ কেজি আম বিক্রি করেছি।

বিগত বছরগুলোতে দেশের সব জেলায় আম পৌঁছে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। সেই সঙ্গে যারা আমাদের কাছ থেকে আম নিয়েছেন তারাও সন্তুষ্ট। সব মিলিয়ে আমাদের চমৎকার অভিজ্ঞতা। এখানে শেখার অনেক কিছু আছে। নিয়মিত শেখার চেষ্টা করছি।
সবার আস্থা আর ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের প্রোডাক্টের মান ঠিক রেখে আমরা সামনের দিনগুলোতে আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করতে চাই। আমি প্রত্যাশা করি যাতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরে হয়। গ্রামের মানুষ যাতে বসে না থাকে। কাজের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা আমাদের প্রয়াস চালিয়ে যেতে চাই।
তরুণ উদ্যোক্তা মুজতাবা ফয়সাল নাঈম প্রতিদিনের পোস্টকে আরও বলেন, বাজারে যে আম বিক্রি হয় সেই আম ফরমালিন ও কার্বাইডমুক্ত বলে মনে হয়নি। অথচ প্রতি কেজি আম ১৩০-১৮০ টাকা পর্যন্ত তারা বিক্রি করছে। তাই আমি ভাবলাম, যদি কাস্টমারকে ফরমালিন ও কার্বাইডমুক্ত আম খাওয়াতে পারি, তবে আমরা অনেক বেশি আম বিক্রি করতে পারবো। এছাড়া সবচেয়ে বড় কথা, আমরা কৃষক এবং ক্লায়েন্টের কথা ভেবেই আমের দাম নির্ধারণ করি। আমরা আমাদের কোয়ালিটি সবসময় ধরে রাখতে চাই।

লেখা: ফজলে রাব্বি শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

তরুণ উদ্যোক্তা নাঈমের সাফল্য

প্রকাশের সময় : ০৭:২৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪
৩৬৫

দেশব্যাপী খ্যাতি রয়েছে রংপুরের হাড়িভাঙা আমের। আর সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষা এই দুই ঋতুতে আমের ফলন হয়।

কিন্তু আমগুলো ফরমালিনমুক্ত নাকি যুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে অনেকের। তাই সারাদেশে ফরমালিনমুক্ত আম সরবরাহের উদ্যোগ নেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ উদ্যোক্তা মুজতাবা ফয়সাল নাঈম । উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প প্রতিদিনের পোস্ট প্রতিনিধির সাথে শেয়ার করেন তিনি।
” বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আমি খুবই হতাশ হয়ে পড়ি। বাবা বেঁচে নেই। শুরুতে প্রচুর লড়াই করতে হয় নিজের সঙ্গে। এ লড়াই ছিল টিকে থাকার লড়াই। টিউশন করে যে টাকা পেতাম তা দিয়ে নিজের খরচ বহন করা অনেক কঠিন ছিল। পরিবারও বেশ সংকট ছিল।
ভাবতে থাকি, ঠিক এই মুহূর্তে কী করা যায়? পরে ফেসবুকে মার্কেটিং করলাম। তবে সেই ফেসবুকের মার্কেটিং থেকে কিছু আম বিক্রি হত। যা থেকে কিছু লাভ হত। এই লাভ থেকেই তহবিল গঠন করলাম। লাভের সম্পূর্ণ অংশ বিনিয়োগ করে দিনে দিনে বিজনেসের পরিধি বাড়িয়েছি। বর্তমানে আমার বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এবং সারাদেশের বেশকিছু সচেতন ক্রেতা আমাদের থেকে আম ক্রয় করেন।
আমরা সবসময় বাছাইকৃত বিশুদ্ধ আম সরবরাহ করার চেষ্টা করেছি। এজন্য একজন ক্লায়েন্টের কাছ থেকে অনেকবার অর্ডার পেয়েছি। গতবার প্রায় ১৬০০ কেজি আম বিক্রি করেছি।

বিগত বছরগুলোতে দেশের সব জেলায় আম পৌঁছে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। সেই সঙ্গে যারা আমাদের কাছ থেকে আম নিয়েছেন তারাও সন্তুষ্ট। সব মিলিয়ে আমাদের চমৎকার অভিজ্ঞতা। এখানে শেখার অনেক কিছু আছে। নিয়মিত শেখার চেষ্টা করছি।
সবার আস্থা আর ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের প্রোডাক্টের মান ঠিক রেখে আমরা সামনের দিনগুলোতে আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করতে চাই। আমি প্রত্যাশা করি যাতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরে হয়। গ্রামের মানুষ যাতে বসে না থাকে। কাজের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা আমাদের প্রয়াস চালিয়ে যেতে চাই।
তরুণ উদ্যোক্তা মুজতাবা ফয়সাল নাঈম প্রতিদিনের পোস্টকে আরও বলেন, বাজারে যে আম বিক্রি হয় সেই আম ফরমালিন ও কার্বাইডমুক্ত বলে মনে হয়নি। অথচ প্রতি কেজি আম ১৩০-১৮০ টাকা পর্যন্ত তারা বিক্রি করছে। তাই আমি ভাবলাম, যদি কাস্টমারকে ফরমালিন ও কার্বাইডমুক্ত আম খাওয়াতে পারি, তবে আমরা অনেক বেশি আম বিক্রি করতে পারবো। এছাড়া সবচেয়ে বড় কথা, আমরা কৃষক এবং ক্লায়েন্টের কথা ভেবেই আমের দাম নির্ধারণ করি। আমরা আমাদের কোয়ালিটি সবসময় ধরে রাখতে চাই।

লেখা: ফজলে রাব্বি শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়