ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বৃদ্ধাশ্রমের আড়ালে ৭৯০ কোটি টাকার জালিয়াতি, যুক্তরাষ্ট্রে দণ্ডিত বাংলাদেশি নারী সঙ্গীর চেয়ে খাবারই প্রিয়? শুধু খেতে ডেটে যান ৩০ শতাংশ মার্কিনি একা পেয়ে যুবকের শরীরে আগুন ধরিয়ে দিল দুর্বৃত্তরা, এরপর… পুরোনো দিনের স্টাইলে নতুন লুক, আশির দশকের ফ্যাশনে এমপি জসিম ১৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় লংমার্চ, রাজপথে নামার ঘোষণা জামায়াতের একসঙ্গে তিন সন্তান জন্ম দিয়ে আলোচনায় ডলি বেগম লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ‘৮০-এর দশকের লুক’, আপনিও তৈরি করবেন যেভাবে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রের ‘ফাঁদে’ পড়ে অন্তঃসত্ত্বা নবম শ্রেণির ছাত্রী, জানাজানি হতেই… যুবককে অপহরণ করে ভিডিও ধারণ, পরিবারের কাছে লাখ টাকা দাবি; গ্রেপ্তার ৩

তরুণ উদ্যোক্তা নাঈমের সাফল্য

নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
  • প্রকাশের সময় : ০৭:২৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪
  • / 653 বার পড়া হয়েছে

দেশব্যাপী খ্যাতি রয়েছে রংপুরের হাড়িভাঙা আমের। আর সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষা এই দুই ঋতুতে আমের ফলন হয়।

কিন্তু আমগুলো ফরমালিনমুক্ত নাকি যুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে অনেকের। তাই সারাদেশে ফরমালিনমুক্ত আম সরবরাহের উদ্যোগ নেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ উদ্যোক্তা মুজতাবা ফয়সাল নাঈম । উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প প্রতিদিনের পোস্ট প্রতিনিধির সাথে শেয়ার করেন তিনি।
” বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আমি খুবই হতাশ হয়ে পড়ি। বাবা বেঁচে নেই। শুরুতে প্রচুর লড়াই করতে হয় নিজের সঙ্গে। এ লড়াই ছিল টিকে থাকার লড়াই। টিউশন করে যে টাকা পেতাম তা দিয়ে নিজের খরচ বহন করা অনেক কঠিন ছিল। পরিবারও বেশ সংকট ছিল।
ভাবতে থাকি, ঠিক এই মুহূর্তে কী করা যায়? পরে ফেসবুকে মার্কেটিং করলাম। তবে সেই ফেসবুকের মার্কেটিং থেকে কিছু আম বিক্রি হত। যা থেকে কিছু লাভ হত। এই লাভ থেকেই তহবিল গঠন করলাম। লাভের সম্পূর্ণ অংশ বিনিয়োগ করে দিনে দিনে বিজনেসের পরিধি বাড়িয়েছি। বর্তমানে আমার বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এবং সারাদেশের বেশকিছু সচেতন ক্রেতা আমাদের থেকে আম ক্রয় করেন।
আমরা সবসময় বাছাইকৃত বিশুদ্ধ আম সরবরাহ করার চেষ্টা করেছি। এজন্য একজন ক্লায়েন্টের কাছ থেকে অনেকবার অর্ডার পেয়েছি। গতবার প্রায় ১৬০০ কেজি আম বিক্রি করেছি।

বিগত বছরগুলোতে দেশের সব জেলায় আম পৌঁছে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। সেই সঙ্গে যারা আমাদের কাছ থেকে আম নিয়েছেন তারাও সন্তুষ্ট। সব মিলিয়ে আমাদের চমৎকার অভিজ্ঞতা। এখানে শেখার অনেক কিছু আছে। নিয়মিত শেখার চেষ্টা করছি।
সবার আস্থা আর ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের প্রোডাক্টের মান ঠিক রেখে আমরা সামনের দিনগুলোতে আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করতে চাই। আমি প্রত্যাশা করি যাতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরে হয়। গ্রামের মানুষ যাতে বসে না থাকে। কাজের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা আমাদের প্রয়াস চালিয়ে যেতে চাই।
তরুণ উদ্যোক্তা মুজতাবা ফয়সাল নাঈম প্রতিদিনের পোস্টকে আরও বলেন, বাজারে যে আম বিক্রি হয় সেই আম ফরমালিন ও কার্বাইডমুক্ত বলে মনে হয়নি। অথচ প্রতি কেজি আম ১৩০-১৮০ টাকা পর্যন্ত তারা বিক্রি করছে। তাই আমি ভাবলাম, যদি কাস্টমারকে ফরমালিন ও কার্বাইডমুক্ত আম খাওয়াতে পারি, তবে আমরা অনেক বেশি আম বিক্রি করতে পারবো। এছাড়া সবচেয়ে বড় কথা, আমরা কৃষক এবং ক্লায়েন্টের কথা ভেবেই আমের দাম নির্ধারণ করি। আমরা আমাদের কোয়ালিটি সবসময় ধরে রাখতে চাই।

লেখা: ফজলে রাব্বি শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

তরুণ উদ্যোক্তা নাঈমের সাফল্য

প্রকাশের সময় : ০৭:২৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪

দেশব্যাপী খ্যাতি রয়েছে রংপুরের হাড়িভাঙা আমের। আর সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষা এই দুই ঋতুতে আমের ফলন হয়।

কিন্তু আমগুলো ফরমালিনমুক্ত নাকি যুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে অনেকের। তাই সারাদেশে ফরমালিনমুক্ত আম সরবরাহের উদ্যোগ নেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ উদ্যোক্তা মুজতাবা ফয়সাল নাঈম । উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প প্রতিদিনের পোস্ট প্রতিনিধির সাথে শেয়ার করেন তিনি।
” বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আমি খুবই হতাশ হয়ে পড়ি। বাবা বেঁচে নেই। শুরুতে প্রচুর লড়াই করতে হয় নিজের সঙ্গে। এ লড়াই ছিল টিকে থাকার লড়াই। টিউশন করে যে টাকা পেতাম তা দিয়ে নিজের খরচ বহন করা অনেক কঠিন ছিল। পরিবারও বেশ সংকট ছিল।
ভাবতে থাকি, ঠিক এই মুহূর্তে কী করা যায়? পরে ফেসবুকে মার্কেটিং করলাম। তবে সেই ফেসবুকের মার্কেটিং থেকে কিছু আম বিক্রি হত। যা থেকে কিছু লাভ হত। এই লাভ থেকেই তহবিল গঠন করলাম। লাভের সম্পূর্ণ অংশ বিনিয়োগ করে দিনে দিনে বিজনেসের পরিধি বাড়িয়েছি। বর্তমানে আমার বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এবং সারাদেশের বেশকিছু সচেতন ক্রেতা আমাদের থেকে আম ক্রয় করেন।
আমরা সবসময় বাছাইকৃত বিশুদ্ধ আম সরবরাহ করার চেষ্টা করেছি। এজন্য একজন ক্লায়েন্টের কাছ থেকে অনেকবার অর্ডার পেয়েছি। গতবার প্রায় ১৬০০ কেজি আম বিক্রি করেছি।

বিগত বছরগুলোতে দেশের সব জেলায় আম পৌঁছে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। সেই সঙ্গে যারা আমাদের কাছ থেকে আম নিয়েছেন তারাও সন্তুষ্ট। সব মিলিয়ে আমাদের চমৎকার অভিজ্ঞতা। এখানে শেখার অনেক কিছু আছে। নিয়মিত শেখার চেষ্টা করছি।
সবার আস্থা আর ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের প্রোডাক্টের মান ঠিক রেখে আমরা সামনের দিনগুলোতে আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করতে চাই। আমি প্রত্যাশা করি যাতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরে হয়। গ্রামের মানুষ যাতে বসে না থাকে। কাজের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা আমাদের প্রয়াস চালিয়ে যেতে চাই।
তরুণ উদ্যোক্তা মুজতাবা ফয়সাল নাঈম প্রতিদিনের পোস্টকে আরও বলেন, বাজারে যে আম বিক্রি হয় সেই আম ফরমালিন ও কার্বাইডমুক্ত বলে মনে হয়নি। অথচ প্রতি কেজি আম ১৩০-১৮০ টাকা পর্যন্ত তারা বিক্রি করছে। তাই আমি ভাবলাম, যদি কাস্টমারকে ফরমালিন ও কার্বাইডমুক্ত আম খাওয়াতে পারি, তবে আমরা অনেক বেশি আম বিক্রি করতে পারবো। এছাড়া সবচেয়ে বড় কথা, আমরা কৃষক এবং ক্লায়েন্টের কথা ভেবেই আমের দাম নির্ধারণ করি। আমরা আমাদের কোয়ালিটি সবসময় ধরে রাখতে চাই।

লেখা: ফজলে রাব্বি শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়