ঢাকা , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ ডিগ্রি কলেজে পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও বার্ষিক ক্রীড়া পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত মাদক জীবন ধ্বংসের অন্যতম কারণ -এ টি এম কামরুল ইসলাম নবীনগরে সংঘর্ষে আহত ব্যক্তির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু কালীগঞ্জে বসত বাড়িতে হামলা, ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ কালীগঞ্জে গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতনতা মূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের চাল বিতরণ জনসমর্থনের জোয়ারে ভাসছেন আতিকুর রহমান শিশু, দিলেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি কালীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও র‌্যালি  কালীগঞ্জে চালক ও যাত্রী ছদ্মবেশী ছিনতাইকারী আটক, উদ্ধার স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে স্টাফদের ওপর হামলা

নবীনগরে জেলা সংযোগ সড়কে বন্ধ হতে যাচ্ছে লঞ্চ-স্পিডবোট!

মো. আলমগীর খন্দকার
  • প্রকাশের সময় : ১২:১৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪
  • / ৯৩৩ বার পড়া হয়েছে

ছবি প্রতিদিনের পোস্ট

৪০৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তিনটি পৃথক জেলা সংযোগ সড়কে বন্ধ হতে যাচ্ছে শত বছরের পুরনো পরিবহন ব্যবস্থা লঞ্চ ও দ্রুত যোগাযোগ মাধ্যমের স্পিডবোট সার্ভিস সেবা।

মেঘনা, তিতাস, বুড়ি, পাগলা, ভাটা, জলেশ্বরী নদী বিধৌত নবীনগর উপজেলা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে যাতায়াতের মাধ্যম ছিল শত বছর ধরে চলা নৌকা ও লঞ্চ। তাছাড়া পাশবর্তী জেলা নরসিংদী ও বন্দর ও বানিজ্যিক এলাকা ভৈরব ও আশুগঞ্জে চলাচলের মাধ্যম ছিল নৌকা ও ছোট সাইজের দ্বিতলা লঞ্চ। সময়ের পরিক্রমায় দ্রুত আসা-যাওয়ার জন্য ২০১০ সালে স্থানীয় বিল্লাল মিয়া মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পায় স্পিডবোট সার্ভিস সেবা। লঞ্চ-নৌকার ভাড়ার চেয়ে ৪ গুন ভাড়া বেশি হলেও সকল শ্রেণী পেশার মানুষ স্পিডবোট যাতায়াত করতো। অদ্বৈত্য মল্ল বর্মনের লেখা “তিতাস একটি নদীর নাম” উপন্যাসের তিতাস আজ ঢেউ হীন, নিরব নদী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নবীনগরে আসা-যাওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে তিনটি পৃথক জেলা সংযোগ সড়ক। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৈরতলা থেকে বড়াইল ইউনিয়ন হয়ে সীতারামপুরের নব নির্মিত সেতু হয়ে নবীনগর সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ন থেকে (লঞ্চঘাট) শিবপুর হয়ে জেলা পরিষদ বাস স্টেশন নবীনগর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড থেকে বিটঘর-রাধানগর হয়ে লাউর ফতেহপুর হয়ে নবীনগর-কোম্পানিগঞ্জ রোডের বটতলী পর্যন্ত। ভারতের আসাম থেকে দেশের নামকরা আখাউড়া-কসবা বর্ডার থেকে ঢাকাগামী রাস্তাটিও নবীনগরের বুক চিরে বাঞ্ছারামপুর-আড়াইহাজার ফেরিঘাট হয়ে দেশের রাজধানী ঢাকা যাবে। দেশের পদ্মা সেতুর পরপরই বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) -আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) সেতু নির্মিত হওয়ার অপেক্ষা মাত্র। এছাড়া ভারতের ট্রানজিট রোডের রেল লাইন ও সড়ক নবীনগরের উপর দিয়ে যাওয়াতে নির্মিত হতে যাওয়া সেতু ও রাস্তার সুবিধা ভোগ করবে নবীনগরবাসী।

লঞ্চ মালিক ইয়ার খান জানান, লঞ্চ এখন বন্ধ হওয়ার পথে। যাত্রী তেমন নাই। এখন অনেক লঞ্চ রুট (নদীপথ) পরিবর্তন করে ফেলেছে। আস্তে আস্তে বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। স্পিডবোট মালিক বিল্লাল মিয়া জানান, রাস্তার কারনে যাত্রী কম। আগে প্রচুর যাত্রী অইতো, এখন সবাই সিএনজি দিয়া আসা-যাওয়া করে। নবীনগর সদরের লঞ্চঘাট ও স্পিডবোট ঘাট সংলগ্ন ব্যবসায়ী আবুল বাশার বলেন, আগে এই পথে মানুষের আনাগোনা ছিল অনেক। যাত্রীদের কোলাহলে চাঙ্গা থাকতো। এখন প্রায় নিরব অবস্থা। যাত্রী কম ব্যবসাও কম। এতে অনেক ব্যবসায়ীই চিন্তিত।

সাবেক এমপি মরহুম এডভোকেট আব্দুল লতিফ, সাবেক এমপি এবাদুল করিম বুলবুল ও বর্তমান এমপি ফয়জুর রহমান বাদল নবীনগরের সাথে জেলা সদর ও ঢাকার যোগাযোগর ক্ষেত্রে সময় কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তবে সমাজের সুশীল ও নেটিজেনদের দাবি, সিএনজি-অটোরিক্সার বদলে জেলা সদরে যাত্রী পরিবহনের জন্য মিনি বাসের ব্যবস্থা করতে পারলে উপকৃত হতো নবীনগরবাসী। ভাড়া হতো কম ও যাত্রী সেবা ভাল হতো।

ফয়জুর রহমান বাদল এমপি বলেন, এই রাস্তাঘাট গুলো সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়ে গেলে জেলা সদরে যেতে যেখানে ২-৩ ঘন্টা সময় লাগে সেখানে মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটে যাওয়া যাবে আর ঢাকায় যেতে যেখানে ৪ থেকে ৮ ঘন্টা লাগে সেখানে মাত্র ২ ঘন্টা সময় লাগবে। এতে সময় ও টাকাও বাঁচবে বলে আমি আশা করি।

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

নবীনগরে জেলা সংযোগ সড়কে বন্ধ হতে যাচ্ছে লঞ্চ-স্পিডবোট!

প্রকাশের সময় : ১২:১৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪
৪০৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তিনটি পৃথক জেলা সংযোগ সড়কে বন্ধ হতে যাচ্ছে শত বছরের পুরনো পরিবহন ব্যবস্থা লঞ্চ ও দ্রুত যোগাযোগ মাধ্যমের স্পিডবোট সার্ভিস সেবা।

মেঘনা, তিতাস, বুড়ি, পাগলা, ভাটা, জলেশ্বরী নদী বিধৌত নবীনগর উপজেলা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে যাতায়াতের মাধ্যম ছিল শত বছর ধরে চলা নৌকা ও লঞ্চ। তাছাড়া পাশবর্তী জেলা নরসিংদী ও বন্দর ও বানিজ্যিক এলাকা ভৈরব ও আশুগঞ্জে চলাচলের মাধ্যম ছিল নৌকা ও ছোট সাইজের দ্বিতলা লঞ্চ। সময়ের পরিক্রমায় দ্রুত আসা-যাওয়ার জন্য ২০১০ সালে স্থানীয় বিল্লাল মিয়া মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পায় স্পিডবোট সার্ভিস সেবা। লঞ্চ-নৌকার ভাড়ার চেয়ে ৪ গুন ভাড়া বেশি হলেও সকল শ্রেণী পেশার মানুষ স্পিডবোট যাতায়াত করতো। অদ্বৈত্য মল্ল বর্মনের লেখা “তিতাস একটি নদীর নাম” উপন্যাসের তিতাস আজ ঢেউ হীন, নিরব নদী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নবীনগরে আসা-যাওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে তিনটি পৃথক জেলা সংযোগ সড়ক। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৈরতলা থেকে বড়াইল ইউনিয়ন হয়ে সীতারামপুরের নব নির্মিত সেতু হয়ে নবীনগর সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ন থেকে (লঞ্চঘাট) শিবপুর হয়ে জেলা পরিষদ বাস স্টেশন নবীনগর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড থেকে বিটঘর-রাধানগর হয়ে লাউর ফতেহপুর হয়ে নবীনগর-কোম্পানিগঞ্জ রোডের বটতলী পর্যন্ত। ভারতের আসাম থেকে দেশের নামকরা আখাউড়া-কসবা বর্ডার থেকে ঢাকাগামী রাস্তাটিও নবীনগরের বুক চিরে বাঞ্ছারামপুর-আড়াইহাজার ফেরিঘাট হয়ে দেশের রাজধানী ঢাকা যাবে। দেশের পদ্মা সেতুর পরপরই বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) -আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) সেতু নির্মিত হওয়ার অপেক্ষা মাত্র। এছাড়া ভারতের ট্রানজিট রোডের রেল লাইন ও সড়ক নবীনগরের উপর দিয়ে যাওয়াতে নির্মিত হতে যাওয়া সেতু ও রাস্তার সুবিধা ভোগ করবে নবীনগরবাসী।

লঞ্চ মালিক ইয়ার খান জানান, লঞ্চ এখন বন্ধ হওয়ার পথে। যাত্রী তেমন নাই। এখন অনেক লঞ্চ রুট (নদীপথ) পরিবর্তন করে ফেলেছে। আস্তে আস্তে বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। স্পিডবোট মালিক বিল্লাল মিয়া জানান, রাস্তার কারনে যাত্রী কম। আগে প্রচুর যাত্রী অইতো, এখন সবাই সিএনজি দিয়া আসা-যাওয়া করে। নবীনগর সদরের লঞ্চঘাট ও স্পিডবোট ঘাট সংলগ্ন ব্যবসায়ী আবুল বাশার বলেন, আগে এই পথে মানুষের আনাগোনা ছিল অনেক। যাত্রীদের কোলাহলে চাঙ্গা থাকতো। এখন প্রায় নিরব অবস্থা। যাত্রী কম ব্যবসাও কম। এতে অনেক ব্যবসায়ীই চিন্তিত।

সাবেক এমপি মরহুম এডভোকেট আব্দুল লতিফ, সাবেক এমপি এবাদুল করিম বুলবুল ও বর্তমান এমপি ফয়জুর রহমান বাদল নবীনগরের সাথে জেলা সদর ও ঢাকার যোগাযোগর ক্ষেত্রে সময় কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তবে সমাজের সুশীল ও নেটিজেনদের দাবি, সিএনজি-অটোরিক্সার বদলে জেলা সদরে যাত্রী পরিবহনের জন্য মিনি বাসের ব্যবস্থা করতে পারলে উপকৃত হতো নবীনগরবাসী। ভাড়া হতো কম ও যাত্রী সেবা ভাল হতো।

ফয়জুর রহমান বাদল এমপি বলেন, এই রাস্তাঘাট গুলো সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়ে গেলে জেলা সদরে যেতে যেখানে ২-৩ ঘন্টা সময় লাগে সেখানে মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটে যাওয়া যাবে আর ঢাকায় যেতে যেখানে ৪ থেকে ৮ ঘন্টা লাগে সেখানে মাত্র ২ ঘন্টা সময় লাগবে। এতে সময় ও টাকাও বাঁচবে বলে আমি আশা করি।