ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন রংপুর স্টেডিয়াম আধুনিকায়নের ঘোষণা, ইউনিয়নে ইউনিয়নে খেলার মাঠ কোথাও ওয়ার্ড, কোথাও পুরো ইউনিয়ন—গঙ্গাচড়ায় লটারি নিয়ে বিতর্ক সরকারি প্রকল্পেও বৈষম্য, নিয়োগ পেলেন না চরাঞ্চলের দরিদ্র নারীরা ‎ভুয়া নিয়োগ, সাজানো পরীক্ষা, জাল নিয়োগপত্র—অবশেষে গ্রেপ্তার প্রধান আসামি ভোটকেন্দ্র সরানোর উদ্যোগে ক্ষোভ, গণস্বাক্ষর নিয়ে মাঠে নির্বাচন কর্মকর্তারা বেতগাড়ীতে এনসিপির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান চুরির অভিযোগে পিটুনিতে দুজনের মৃত্যু, মামলা করল পুলিশ সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভার সন্ধানে গঙ্গাচড়ায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের যাত্রা প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন বেকারত্বের কারণ না হয়: রাষ্ট্রপতি

ভোটকেন্দ্র সরানোর উদ্যোগে ক্ষোভ, গণস্বাক্ষর নিয়ে মাঠে নির্বাচন কর্মকর্তারা

মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল
মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৭:০৫:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / 1 বার পড়া হয়েছে

৩০ বছর ধরে যে কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আসছেন, সেই কেন্দ্রই বদলে দেওয়ার উদ্যোগ ঘিরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে রংপুরের গঙ্গাচড়ায়। কোলকোন্দ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র সরিয়ে চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেওয়ার উদ্যোগের বিরোধিতা করে গণস্বাক্ষরসহ লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিনের কেন্দ্র পরিবর্তনের আগে ভোটারদের মতামত নেওয়া হলো না কেন?
‎
‎এ নিয়ে এলাকায় পক্ষে-বিপক্ষে মতপার্থক্যের মধ্যে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরেজমিনে তদন্ত করেছেন নির্বাচন বিভাগের দুই কর্মকর্তা। কেন্দ্র পরিবর্তনের যৌক্তিকতা ও স্থানীয়দের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সাউদপাড়া ও চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন রংপুরের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম এবং অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান।
‎
‎তদন্ত শেষে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, দুই বিদ্যালয় পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
‎
‎কেন্দ্র বহাল রাখার দাবিদার স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুব হোসেন ও মোখলেসুর ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের পরিচিত কেন্দ্র পরিবর্তন করা হলে ভোটারদের ভোগান্তি বাড়বে। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের নতুন কেন্দ্রে যাতায়াতে সমস্যা হবে। তাঁদের অভিযোগ, ভোটারদের মতামত না নিয়েই কেন্দ্র পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‎
‎তাঁদের আরও দাবি, তিস্তা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণের পরিবেশ ও যাতায়াতসুবিধা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রিকশা-ভ্যান চলাচলের সুবিধা না থাকায় অনেক ভোটারকে হেঁটে যেতে হতে পারে। এতে দুর্ভোগে পড়বেন নারী ও বয়স্ক ভোটাররা।
‎
‎তবে কেন্দ্র পরিবর্তনের পক্ষে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ও আব্দুল হালিম। তাঁদের ভাষ্য, আগে চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ করা হতো। পরে প্রায় ৩০ বছর ধরে সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট হচ্ছে। তাঁরা আবার চিলখাল বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন।
‎
‎কেন্দ্র পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদকে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি, জানানোও হয়নি। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহসান হাবীব বলেন, কেন্দ্র পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই; এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
‎
‎জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুর রহিম এর আগে জানিয়েছিলেন, কেন্দ্র পরিবর্তনের চিঠি তাঁদের কাছে এসেছে। ভোটারসংখ্যার তারতম্যের কারণে এমন পরিবর্তন হতে পারে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
‎
‎উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ২৭০ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ১৮১ এবং নারী ১ হাজার ৮৯ জন। দীর্ঘদিনের ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের উদ্যোগ, স্থানীয়দের আপত্তি ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে এখন তদন্ত প্রতিবেদন ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন এসব ভোটার।
‎

এই নিউজটি শেয়ার করুন

ভোটকেন্দ্র সরানোর উদ্যোগে ক্ষোভ, গণস্বাক্ষর নিয়ে মাঠে নির্বাচন কর্মকর্তারা

প্রকাশের সময় : ০৭:০৫:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

৩০ বছর ধরে যে কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আসছেন, সেই কেন্দ্রই বদলে দেওয়ার উদ্যোগ ঘিরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে রংপুরের গঙ্গাচড়ায়। কোলকোন্দ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র সরিয়ে চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেওয়ার উদ্যোগের বিরোধিতা করে গণস্বাক্ষরসহ লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিনের কেন্দ্র পরিবর্তনের আগে ভোটারদের মতামত নেওয়া হলো না কেন?
‎
‎এ নিয়ে এলাকায় পক্ষে-বিপক্ষে মতপার্থক্যের মধ্যে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরেজমিনে তদন্ত করেছেন নির্বাচন বিভাগের দুই কর্মকর্তা। কেন্দ্র পরিবর্তনের যৌক্তিকতা ও স্থানীয়দের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সাউদপাড়া ও চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন রংপুরের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম এবং অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান।
‎
‎তদন্ত শেষে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, দুই বিদ্যালয় পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
‎
‎কেন্দ্র বহাল রাখার দাবিদার স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুব হোসেন ও মোখলেসুর ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের পরিচিত কেন্দ্র পরিবর্তন করা হলে ভোটারদের ভোগান্তি বাড়বে। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের নতুন কেন্দ্রে যাতায়াতে সমস্যা হবে। তাঁদের অভিযোগ, ভোটারদের মতামত না নিয়েই কেন্দ্র পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‎
‎তাঁদের আরও দাবি, তিস্তা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণের পরিবেশ ও যাতায়াতসুবিধা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রিকশা-ভ্যান চলাচলের সুবিধা না থাকায় অনেক ভোটারকে হেঁটে যেতে হতে পারে। এতে দুর্ভোগে পড়বেন নারী ও বয়স্ক ভোটাররা।
‎
‎তবে কেন্দ্র পরিবর্তনের পক্ষে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ও আব্দুল হালিম। তাঁদের ভাষ্য, আগে চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ করা হতো। পরে প্রায় ৩০ বছর ধরে সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট হচ্ছে। তাঁরা আবার চিলখাল বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন।
‎
‎কেন্দ্র পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদকে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি, জানানোও হয়নি। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহসান হাবীব বলেন, কেন্দ্র পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই; এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
‎
‎জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুর রহিম এর আগে জানিয়েছিলেন, কেন্দ্র পরিবর্তনের চিঠি তাঁদের কাছে এসেছে। ভোটারসংখ্যার তারতম্যের কারণে এমন পরিবর্তন হতে পারে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
‎
‎উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ২৭০ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ১৮১ এবং নারী ১ হাজার ৮৯ জন। দীর্ঘদিনের ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের উদ্যোগ, স্থানীয়দের আপত্তি ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে এখন তদন্ত প্রতিবেদন ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন এসব ভোটার।
‎