সাভারে নাকে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু, পলাতক চিকিৎসক-নার্স
- প্রকাশের সময় : ০৪:১০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / 5 বার পড়া হয়েছে
সাভারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নাকে ভুল চিকিৎসায় আব্রাহাম (১১) নামের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত চিকিৎসকসহ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সটকে পড়েন। এ ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে সাভার পৌর এলাকার উলাইলে অবস্থিত ‘আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে’ এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু আব্রাহাম মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার রাজানগর নোয়াদ্দা এলাকার দুবাইপ্রবাসী আব্দুল আলীমের ছেলে।
শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, আব্রাহামের নাকে পলিপ ও গলায় টনসিলের সমস্যা ছিল। বুধবার দুপুরে তাকে আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শে অস্ত্রোপচারকক্ষে (ওটি) নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর স্বজনরা হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সদের ছোটাছুটি দেখতে পান। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে শিশুটিকে আইসিইউর কথা বলে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির মা কনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের আগে ইসিজি করানো হয়েছিল। তবে চিকিৎসক না থাকায় ইকো পরীক্ষা করানো সম্ভব হয়নি। বিষয়টি চিকিৎসক সুমন হোসাইনকে জানালে তিনি ইসিজি রিপোর্ট দেখেই ইকো পরীক্ষার প্রয়োজন নেই বলে জানান এবং অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ মেডিকেল অফিসার আব্দুল আহাদ জানান, শিশুটিকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার হার্টবিট ছিল না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই চিকিৎসকেরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিচয়ে মজিবুর রহমান দাবি করেন, অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর নাক দিয়ে ক্যানুলা প্রবেশ করানোর সময় শিশুটির শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে আমাদের কর্মীরাই তাকে এনাম মেডিকেলে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজর আলী জানান, সুরতহাল করার সময় শিশুটির শরীরে কাটাছেঁড়ার চিহ্ন না পাওয়া গেলেও নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়ার আলামত পাওয়া গেছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে তার আগেই চিকিৎসকরা গাঢাকা দেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা মামলা দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ফজলে বারী জানান, খবর পেয়ে বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





















