কাতারে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৩ জনের প্রাণ গেল
- প্রকাশের সময় : ১০:২১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
- / ১০ বার পড়া হয়েছে
কাতারের বিশাল রাস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কমপ্লেক্সে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। মার্চ মাসে ইরানের হামলার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কার্যক্রম পুনরায় চালুর সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
কাতার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যায় বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে একটি ‘কারিগরি দুর্ঘটনা’ থেকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
সোমবার (২২ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি জানান, বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। নিহত সবাই ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক।
তিনি বলেন, এটি একটি দুর্ঘটনা, কোনো ধরনের নাশকতা বা শত্রুতামূলক হামলা নয়। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ ছিল। মাত্র দুই দিন আগে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল।
মন্ত্রী আরও জানান, পরিবেশের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি এবং প্ল্যান্টটির রফতানি সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিস্ফোরণের অভিঘাত রাজধানী দোহার কেন্দ্রীয় এলাকাতেও অনুভূত হয়, যা প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
ঘটনাটি ইরান যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে থাকা চ্যালেঞ্জকে সামনে নিয়ে এসেছে।
হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থার কারণে কাতার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি, কারণ এলএনজি রফতানির জন্য তাদের বিকল্প কোনো রুট নেই।
এলএনজি উৎপাদন পুনরায় শুরু করা অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। তাপীয় ধাক্কা (থার্মাল শক) এড়াতে ধীরে ধীরে শীতলীকরণ সম্পন্ন করতে হয়। ফলে সব এলএনজি ইউনিট একসঙ্গে চালু করা যায় না, ধাপে ধাপে সেগুলো চালু করতে হয়।
প্রাকৃতিক গ্যাসকে প্রায় মাইনাস ১৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শীতল করে তরল অবস্থায় রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় ‘কুলডাউন’ ধাপটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যেখানে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেই বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রটি রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির অংশ। এটি কাতারএনার্জির বৃহৎ এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র, যার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৭ কোটি ৭০ লাখ মেট্রিক টন।
বারজান কেন্দ্র স্থানীয় শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ করে। পাশাপাশি এটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং অন্যান্য পণ্যও উৎপাদন করে, যা রপ্তানি করা হয়।
গত মার্চে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাস লাফানের দুটি গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে কাতারের এলএনজি রফতানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ কমে যায়। কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী রয়টার্সকে জানান, ওই ক্ষতি মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।
যুদ্ধের কারণে কোম্পানিটিকে অফশোর রিগ এবং স্থলভিত্তিক প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মী সরিয়ে নিতে হয়েছিল। তবে মার্চের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।























