ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রাজপথের রাজনীতির চেয়ে সংসদকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর নায়িকা কে? শাকিবের নতুন সিনেমা নিয়ে গুঞ্জনের ইতি টানলেন প্রযোজক মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক, কতটা বাড়ছে ক্যান্সারের আশঙ্কা? ঢাকার কনসার্টে পারফর্ম করবেন পাকিস্তানি তারকা হাসান রহিম হাম উপসর্গে শিশুমৃত্যু বেড়েই চলেছে, আরও ৩ শিশুর মৃত্যু প্রতিদ্বন্দ্বীহীন নির্বাচনে ফের সাফ সভাপতির আসনে কাজী সালাহউদ্দিন বাস দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জেলা ছাত্রদল সভাপতিসহ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা ৪১টি দুধের সবকটিতেই মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক নবীনগরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক, কতটা বাড়ছে ক্যান্সারের আশঙ্কা?

প্রতিদিনের পোস্ট ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১০:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৬ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (ইএসডিও)-র এক গবেষণায় পাওয়া গেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য। দেশে বহুল প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ২৬টিতেই— অর্থাৎ প্রায় ৭৬.৫ শতাংশ টুথপেস্টে রয়েছে প্লাস্টিকের অতিক্ষুদ্র কণা বা ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’।

গড়ে প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট আকারের এই প্লাস্টিক কণাগুলো প্রসাধন সামগ্রীতে ইচ্ছে করেই ঘর্ষণের সুবিধার্থে দেওয়া হয় অথবা দৈনন্দিন ব্যবহারের বোতল ও ব্যাগ ভেঙে প্রকৃতির সংস্পর্শে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়।

এই সূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণাগুলো আমাদের অজান্তেই খাবার, প্লাস্টিকের বোতলের পানি, প্রক্রিয়াজাত টি-ব্যাগ, প্লাস্টিক বোর্ডে কাটা সবজি, এমনকি বাতাসের ধুলাবালির মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করছে। কুলি করার পরেও টুথপেস্টের কণা পেটে চলে যাওয়া কিংবা শিশুদের গিলে ফেলার মাধ্যমে এটি সরাসরি পরিপাকতন্ত্রে পৌঁছায়।

বিজ্ঞানীরা মানুষের রক্ত, গর্ভফুল এবং বুকের দুধেও এই অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিকের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। মানবদেহে প্রবেশের পর এটি রক্তনালীতে জমা হয়ে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়, কোষের অকাল মৃত্যু ঘটায়, হরমোনের স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট করে থাইরয়েড ও প্রজননক্ষমতার ক্ষতি করে এবং অন্ত্রের প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বিনষ্ট করে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো— মাইক্রোপ্লাস্টিক কি ক্যান্সার সৃষ্টি করে? সরাসরি এটি ক্যান্সারের প্রাথমিক ও নিশ্চিত কারণ কি না, তা নিয়ে এখনো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিংবা বিজ্ঞানীরা চূড়ান্ত কোনো শ্রেণিবিন্যাস করেননি। তবে এটি মানবদেহে ক্যান্সারের এক উর্বর পটভূমি তৈরি করে। শরীর থেকে এই প্লাস্টিক কণা বের হতে না পেরে টিস্যুতে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ (ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন) সৃষ্টি করে, যা ক্যান্সারের প্রধান অনুঘটক। তা ছাড়া প্লাস্টিকের ক্ষতিকর কেমিক্যাল রক্তে মিশে কোষের ডিএনএ বিকৃত করে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়িয়ে দেয়, যা কোষকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে সাহায্য করে ক্যান্সারে রূপ দিতে পারে।

এই নীরব ঘাতকের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে শিশুরা, কারণ তাদের শরীরের অর্গানগুলো তখনও বিকাশমান থাকে। ইএসডিও-র তথ্যানুযায়ী, শিশুদের জন্য প্রচলিত ৬টি টুথপেস্টের ৪টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা টুথপেস্ট ও খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা ‘শূন্য’ রাখার দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক, কতটা বাড়ছে ক্যান্সারের আশঙ্কা?

প্রকাশের সময় : ১০:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

সম্প্রতি ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (ইএসডিও)-র এক গবেষণায় পাওয়া গেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য। দেশে বহুল প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ২৬টিতেই— অর্থাৎ প্রায় ৭৬.৫ শতাংশ টুথপেস্টে রয়েছে প্লাস্টিকের অতিক্ষুদ্র কণা বা ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’।

গড়ে প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট আকারের এই প্লাস্টিক কণাগুলো প্রসাধন সামগ্রীতে ইচ্ছে করেই ঘর্ষণের সুবিধার্থে দেওয়া হয় অথবা দৈনন্দিন ব্যবহারের বোতল ও ব্যাগ ভেঙে প্রকৃতির সংস্পর্শে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়।

এই সূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণাগুলো আমাদের অজান্তেই খাবার, প্লাস্টিকের বোতলের পানি, প্রক্রিয়াজাত টি-ব্যাগ, প্লাস্টিক বোর্ডে কাটা সবজি, এমনকি বাতাসের ধুলাবালির মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করছে। কুলি করার পরেও টুথপেস্টের কণা পেটে চলে যাওয়া কিংবা শিশুদের গিলে ফেলার মাধ্যমে এটি সরাসরি পরিপাকতন্ত্রে পৌঁছায়।

বিজ্ঞানীরা মানুষের রক্ত, গর্ভফুল এবং বুকের দুধেও এই অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিকের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। মানবদেহে প্রবেশের পর এটি রক্তনালীতে জমা হয়ে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়, কোষের অকাল মৃত্যু ঘটায়, হরমোনের স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট করে থাইরয়েড ও প্রজননক্ষমতার ক্ষতি করে এবং অন্ত্রের প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বিনষ্ট করে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো— মাইক্রোপ্লাস্টিক কি ক্যান্সার সৃষ্টি করে? সরাসরি এটি ক্যান্সারের প্রাথমিক ও নিশ্চিত কারণ কি না, তা নিয়ে এখনো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিংবা বিজ্ঞানীরা চূড়ান্ত কোনো শ্রেণিবিন্যাস করেননি। তবে এটি মানবদেহে ক্যান্সারের এক উর্বর পটভূমি তৈরি করে। শরীর থেকে এই প্লাস্টিক কণা বের হতে না পেরে টিস্যুতে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ (ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন) সৃষ্টি করে, যা ক্যান্সারের প্রধান অনুঘটক। তা ছাড়া প্লাস্টিকের ক্ষতিকর কেমিক্যাল রক্তে মিশে কোষের ডিএনএ বিকৃত করে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়িয়ে দেয়, যা কোষকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে সাহায্য করে ক্যান্সারে রূপ দিতে পারে।

এই নীরব ঘাতকের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে শিশুরা, কারণ তাদের শরীরের অর্গানগুলো তখনও বিকাশমান থাকে। ইএসডিও-র তথ্যানুযায়ী, শিশুদের জন্য প্রচলিত ৬টি টুথপেস্টের ৪টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা টুথপেস্ট ও খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা ‘শূন্য’ রাখার দাবি জানিয়েছেন।