ঢাকা , সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, কারাগারে দুই ব্যক্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭নং ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান তাজমিনের সঙ্গে কক্সবাজারের হোটেলে ‘স্ত্রী’ পরিচয়ে ছিলেন রিয়াজ রাজুর ডাকে কক্সবাজারে গিয়েছিল স্কুলছাত্রী তাজমিন নির্জন পথে নিয়ে তাজমিনকে ধর্ষণ, পরে হত্যা বান্ধবী ভালো নয়’, সন্দেহে ৬ মাস মেয়েকে স্কুলে পাঠাননি মা! আমতলী চৌরাস্তার দখল হওয়া ট্রাফিক পুলিশ বক্স ১৭ বছরেও উদ্ধার হয়নি, ঝুঁকিতে জনগন গংগাচড়ায় বড় মসজিদের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি রায়হান সিরাজী ‎ ধামইরহাটে নজরুল বর্ষে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান নরসিংদীর শিবপুরে ১৯৮ বোতল ফেনসিডিলসহ প্রাইভেটকার জব্দ, আটক ১

তাজমিনের সঙ্গে কক্সবাজারের হোটেলে ‘স্ত্রী’ পরিচয়ে ছিলেন রিয়াজ

নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 6 বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লায় ধর্ষণের পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া কিশোরী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) কক্সবাজার ভ্রমণকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। মৃত্যুর আগে সে কক্সবাজারের কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু নামে এক যুবকের সঙ্গে ‘স্ত্রী’ পরিচয়ে এক রাত অবস্থান করেছিল।

হোটেলটির রেজিস্টার খাতা ও সিসিটিভি ফুটেজে তাদের অবস্থানের সত্যতা মিলেছে। রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর হিসেবে উল্লেখ করে তাকে রিয়াজের স্ত্রী দেখানো হয়। সেখানে রিয়াজের বাড়ি বান্দরবানের লামা এলাকায় বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাজমিন ও রিয়াজ কলাতলীর ওই তিনতলা হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে। পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে দেয়। রিয়াজ তাকে ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসে তুলে দেন।

বাড়ি থেকে বের হওয়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে বিবাদের পর তাজমিন বাসা থেকে বেরিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়। সেখান থেকে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তাজমিনকে বিকাশে ৫০০ টাকা পাঠিয়ে কক্সবাজারে আসতে বলেন। রিয়াজের এক সহকর্মী জানান, ফেসবুকে পরিচয়ের পর থেকেই তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তবে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথেই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে তাজমিনের। সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমন মিয়ার হাতে সে নির্মম ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। রিয়াজের সহকর্মী জানান, অটোরিকশায় চড়ার সময়ও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মোবাইলে কথা হচ্ছিল এবং অটোরিকশার বিবরণও সে জানিয়েছিল। কিন্তু রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে গেলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর পুলিশ অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের হারিয়ে যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত রিয়াজের মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, প্রযুক্তির সহায়তা ও কললিস্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার পেছনে থাকা পুরো রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

তাজমিনের সঙ্গে কক্সবাজারের হোটেলে ‘স্ত্রী’ পরিচয়ে ছিলেন রিয়াজ

প্রকাশের সময় : ০৯:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লায় ধর্ষণের পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া কিশোরী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) কক্সবাজার ভ্রমণকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। মৃত্যুর আগে সে কক্সবাজারের কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু নামে এক যুবকের সঙ্গে ‘স্ত্রী’ পরিচয়ে এক রাত অবস্থান করেছিল।

হোটেলটির রেজিস্টার খাতা ও সিসিটিভি ফুটেজে তাদের অবস্থানের সত্যতা মিলেছে। রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর হিসেবে উল্লেখ করে তাকে রিয়াজের স্ত্রী দেখানো হয়। সেখানে রিয়াজের বাড়ি বান্দরবানের লামা এলাকায় বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাজমিন ও রিয়াজ কলাতলীর ওই তিনতলা হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে। পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে দেয়। রিয়াজ তাকে ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসে তুলে দেন।

বাড়ি থেকে বের হওয়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে বিবাদের পর তাজমিন বাসা থেকে বেরিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়। সেখান থেকে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তাজমিনকে বিকাশে ৫০০ টাকা পাঠিয়ে কক্সবাজারে আসতে বলেন। রিয়াজের এক সহকর্মী জানান, ফেসবুকে পরিচয়ের পর থেকেই তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তবে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথেই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে তাজমিনের। সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমন মিয়ার হাতে সে নির্মম ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। রিয়াজের সহকর্মী জানান, অটোরিকশায় চড়ার সময়ও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মোবাইলে কথা হচ্ছিল এবং অটোরিকশার বিবরণও সে জানিয়েছিল। কিন্তু রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে গেলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর পুলিশ অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের হারিয়ে যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত রিয়াজের মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, প্রযুক্তির সহায়তা ও কললিস্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার পেছনে থাকা পুরো রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।