ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শোভাযাত্রা কুলাউড়ায় ডাকাতির ঘটনায় ২ জনসহ গ্রেপ্তার-৭ আমতলীতে মাদক ব্যবসায়ী, সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকতাকারীকে গ্রেফতার কালীগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যুবকের মৃত্যু কালীগঞ্জে জিয়াউর রহমান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন ভাঙ্গারী স্পোর্টিং ক্লাব টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে কালীগঞ্জে লক্ষ্মীপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতা বাবলু মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ ছাত্র আরিফ ১৮ দিনেও মিলেনি সন্ধান বসুন্ধরা শুভ সংঘের বিভাগীয় সম্মেলনে সম্মানিত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান প্রবাসীর স্ত্রীকে ভিডিওর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, গ্রেপ্তার মাদরাসাশিক্ষক

নির্ধারিত সময়ের ৫ বছর অতিক্রমেও সম্পূর্ণ হয়নি স্কুলের কাজ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / 278 বার পড়া হয়েছে

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১৮ মাস সময় বেঁধে দিলেও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ৫ বছর অতিক্রম হলেও সম্পূর্ণ হয়নি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের বৃন্দাবনপুর আবুল ফজল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪তলার নতুন ভবনের কাজ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে কাজ শেষ করার জন্য সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বারবার ধরনা দিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ফলে চরম অস্বস্তি ও বিরম্বনায় পুরাতন ভবনে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।

বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় ২০১৮ সালে আবুল ফজল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়টি ৩০০০ স্কুল প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে একটি উর্ধ্বমুখী চারতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করতে বলা হয়।

এজন্য ২ কোটি ৭৩ লাখ ৯০ হাজার ৬৫১ টাকাও বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৩রা নভেম্বর নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ।

৪তলা বিশিষ্ট ভবনের কাজ শেষ করার জন্য ১৮ মাস সময় নির্ধারণ করে ২০১৯ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। ২০১৯-২০ সালে দু’তলা পর্যন্ত আংশিক কাজ করা হলেও বর্তমানে প্রায় তিন বছর ধরে কাজ বন্ধ অবস্থায় আছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। ফলে পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় পাঠদানে বিঘ্নিত হচ্ছে।

আবুল ফজল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, অনেক কষ্ট করে আমরা একটি ভবন পেয়েছিলাম। কিন্তু দীর্ঘ ৩ বছর ধরে কাজ বন্ধ আছে। আমরা জানিনা কেন কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেক কষ্ট করে অবকাঠামো সংকট নিয়ে পাঠদান চলছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রভাষক মো. আব্দুল আহাদ বলেন, বিগত ৩ বছর ধরে আমরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও কাজ হচ্ছেনা। অবকাঠামো সংকট থাকায় বহুবার আবেদন করে একটি ভবন পেয়েছি। ভবনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য আমরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার চিঠি দিয়েছি। আমাদের বিদ্যালয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা হোক।

এবিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, কাজ শুরু করার কিছুদিন পর মহামারী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এসময় কাজ বন্ধ রাখা হয়। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের পর রড-সিমেন্টসহ নির্মাণ সামগ্রীর দাম অনেক বেশি বেড়ে যায়। যার জন্য আর কাজ করা হয়নি। জিনিসপত্রের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হলে আবার কাজ শুরু করবো।

মৌলভীবাজার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুল আরেফিন খাঁন বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণ দেখিয়ে ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখেছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যায়নি। কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা হয়েছে। আশা করি খুব শিগগিরই আবার কাজ শুরু করা হবে।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

নির্ধারিত সময়ের ৫ বছর অতিক্রমেও সম্পূর্ণ হয়নি স্কুলের কাজ

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১৮ মাস সময় বেঁধে দিলেও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ৫ বছর অতিক্রম হলেও সম্পূর্ণ হয়নি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের বৃন্দাবনপুর আবুল ফজল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪তলার নতুন ভবনের কাজ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে কাজ শেষ করার জন্য সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বারবার ধরনা দিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ফলে চরম অস্বস্তি ও বিরম্বনায় পুরাতন ভবনে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।

বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় ২০১৮ সালে আবুল ফজল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়টি ৩০০০ স্কুল প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে একটি উর্ধ্বমুখী চারতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করতে বলা হয়।

এজন্য ২ কোটি ৭৩ লাখ ৯০ হাজার ৬৫১ টাকাও বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৩রা নভেম্বর নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ।

৪তলা বিশিষ্ট ভবনের কাজ শেষ করার জন্য ১৮ মাস সময় নির্ধারণ করে ২০১৯ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। ২০১৯-২০ সালে দু’তলা পর্যন্ত আংশিক কাজ করা হলেও বর্তমানে প্রায় তিন বছর ধরে কাজ বন্ধ অবস্থায় আছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। ফলে পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় পাঠদানে বিঘ্নিত হচ্ছে।

আবুল ফজল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, অনেক কষ্ট করে আমরা একটি ভবন পেয়েছিলাম। কিন্তু দীর্ঘ ৩ বছর ধরে কাজ বন্ধ আছে। আমরা জানিনা কেন কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেক কষ্ট করে অবকাঠামো সংকট নিয়ে পাঠদান চলছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রভাষক মো. আব্দুল আহাদ বলেন, বিগত ৩ বছর ধরে আমরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও কাজ হচ্ছেনা। অবকাঠামো সংকট থাকায় বহুবার আবেদন করে একটি ভবন পেয়েছি। ভবনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য আমরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার চিঠি দিয়েছি। আমাদের বিদ্যালয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা হোক।

এবিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, কাজ শুরু করার কিছুদিন পর মহামারী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এসময় কাজ বন্ধ রাখা হয়। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের পর রড-সিমেন্টসহ নির্মাণ সামগ্রীর দাম অনেক বেশি বেড়ে যায়। যার জন্য আর কাজ করা হয়নি। জিনিসপত্রের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হলে আবার কাজ শুরু করবো।

মৌলভীবাজার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুল আরেফিন খাঁন বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণ দেখিয়ে ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখেছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যায়নি। কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা হয়েছে। আশা করি খুব শিগগিরই আবার কাজ শুরু করা হবে।