ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কালীগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যুবকের মৃত্যু কালীগঞ্জে জিয়াউর রহমান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন ভাঙ্গারী স্পোর্টিং ক্লাব টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে কালীগঞ্জে লক্ষ্মীপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতা বাবলু মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ ছাত্র আরিফ ১৮ দিনেও মিলেনি সন্ধান বসুন্ধরা শুভ সংঘের বিভাগীয় সম্মেলনে সম্মানিত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান প্রবাসীর স্ত্রীকে ভিডিওর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, গ্রেপ্তার মাদরাসাশিক্ষক শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরেক মামলা, তদন্তে সিআইডি বদরগঞ্জে ট্রেন দুর্ঘটনা, লাইনচ্যুত চার চাকা; কারণ অজানা অটোরিকশা চুরির অভিযোগে উত্তেজনা, গণপিটুনিতে প্রাণ গেল দুজনের

“সমাবেশের তিন দিন আগেই রাজশাহীতে বিএনপি নেতাকর্মীরা”

নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
  • প্রকাশের সময় : ০৬:২৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২
  • / 290 বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট || সমাবেশের তিন দিন আগেই রাজশাহীতে বিএনপি নেতাকর্মীরা|

আর দুই দিন পরেই রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে (হাজি মুহম্মদ মুহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে) বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ। তবে গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই সমাবেশস্থলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। দূর-দূরান্ত থেকে চাল, ডাল, মুড়িসহ অন্যান্য শুকনো খাবার নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেছেন তারা।

গতকালই বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে মঞ্চ প্রস্তুত এবং মাঠে বাঁশ-খুঁটি পোঁতার কাজ। তবে পুলিশের শর্ত অনুযায়ী, যারা মাঠে কাজ করছেন, কেবল তারাই সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন।

ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা এখনো মাদ্রাসার ময়দানে প্রবেশ করতে পারছেন না। তারা আশ্রয় নিয়েছেন মাদ্রাসা মাঠের পাশে রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। গতকাল সন্ধ্যা থেকে আসা নেতাকর্মীরা খোলা আকাশের নিচে রাতটি সেখানেই কম্বল মুড়ি দিয়েকাটিয়েছেন। তবে নেতাকর্মীদের কোনো কোনো দল তাঁবু টানিয়েছে।

গতকাল দিনগত রাত ১২টার দিকে ঈদগাহ মাঠে গিয়ে দেখা যায়- চাল, ডাল, শুকনো খাবার, হাঁড়ি-পাতিল, লাকড়ি ও ব্যাগে প্রয়োজনীয় গরম কাপড় নিয়েই নেতাকর্মীরা এসেছেন। বেশির ভাগ নেতাকর্মী বাতাস ঠেকাতে একপাশে শুধু পলিথিনের বেড়া দিয়ে কম্বল জড়িয়ে শুয়ে পড়েছেন। কোথাও কোথাও রান্নার আয়োজন চলছে। কোথাও স্লোগান দিচ্ছেন নেতাকর্মীরা। রাজশাহীর স্থানীয় নেতারা ঘুরে ঘুরে তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন।

জানতে চাইলে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার একটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলিনুর রহমান আন্না বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হচ্ছে। তাই আগের দিনই আমরা চলে এসেছি। আমরা প্রায় ৪০০ নেতাকর্মী চারটি বাসে করে আসছিলাম। রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা কলেজ মোড়ে পুলিশ আমাদের বাস থেকে নামিয়ে দিয়েছে। পুলিশ গাড়িগুলো আটকে রেখেছিল। এরপর প্রায় ১৩ কিলোমিটার রাস্তা আমরা হেঁটে এসেছি।’

পাবনার বেড়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘লাল কার্ড’ দেখাতে সব বাধা অতিক্রম করে আমরা তিন দিন আগেই সমাবেশস্থলে এসে হাজির হয়েছি। যত কষ্টই হোক, সমাবেশ সফল করেই ফিরব আমরা।’

এদিকে রাজশাহীর এই সমাবেশে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ জড়ো করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। যদিও এই সমাবেশের আগে গত ২৬ নভেম্বর মহাসড়ক থেকে নছিমন, করিমন, ভটভটিসহ অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করাসহ ১১টি দাবি জানায় পরিবহন মালিক সমিতি। দাবি আদায় না হলে ১ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।

তবে এসব দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো পর্যায় থেকে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়নি। ফলে আলটিমেটাম অনুযায়ী পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই পরিবহন ধর্মঘটের সঙ্গে মালিক-শ্রমিকের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সমাবেশে নেতাকর্মীদের আগমন ঠেকাতে এই ধর্মঘট সরকারের চাপিয়ে দেওয়া। এর আগেও বিএনপির অন্যান্য বিভাগীয় সমাবেশের আগে ওই এলাকায় ধর্মঘট হয়েছে।

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ । রিপু /প্রতিদিনের পোস্ট

এই নিউজটি শেয়ার করুন

“সমাবেশের তিন দিন আগেই রাজশাহীতে বিএনপি নেতাকর্মীরা”

প্রকাশের সময় : ০৬:২৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট || সমাবেশের তিন দিন আগেই রাজশাহীতে বিএনপি নেতাকর্মীরা|

আর দুই দিন পরেই রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে (হাজি মুহম্মদ মুহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে) বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ। তবে গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই সমাবেশস্থলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। দূর-দূরান্ত থেকে চাল, ডাল, মুড়িসহ অন্যান্য শুকনো খাবার নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেছেন তারা।

গতকালই বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে মঞ্চ প্রস্তুত এবং মাঠে বাঁশ-খুঁটি পোঁতার কাজ। তবে পুলিশের শর্ত অনুযায়ী, যারা মাঠে কাজ করছেন, কেবল তারাই সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন।

ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা এখনো মাদ্রাসার ময়দানে প্রবেশ করতে পারছেন না। তারা আশ্রয় নিয়েছেন মাদ্রাসা মাঠের পাশে রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। গতকাল সন্ধ্যা থেকে আসা নেতাকর্মীরা খোলা আকাশের নিচে রাতটি সেখানেই কম্বল মুড়ি দিয়েকাটিয়েছেন। তবে নেতাকর্মীদের কোনো কোনো দল তাঁবু টানিয়েছে।

গতকাল দিনগত রাত ১২টার দিকে ঈদগাহ মাঠে গিয়ে দেখা যায়- চাল, ডাল, শুকনো খাবার, হাঁড়ি-পাতিল, লাকড়ি ও ব্যাগে প্রয়োজনীয় গরম কাপড় নিয়েই নেতাকর্মীরা এসেছেন। বেশির ভাগ নেতাকর্মী বাতাস ঠেকাতে একপাশে শুধু পলিথিনের বেড়া দিয়ে কম্বল জড়িয়ে শুয়ে পড়েছেন। কোথাও কোথাও রান্নার আয়োজন চলছে। কোথাও স্লোগান দিচ্ছেন নেতাকর্মীরা। রাজশাহীর স্থানীয় নেতারা ঘুরে ঘুরে তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন।

জানতে চাইলে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার একটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলিনুর রহমান আন্না বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হচ্ছে। তাই আগের দিনই আমরা চলে এসেছি। আমরা প্রায় ৪০০ নেতাকর্মী চারটি বাসে করে আসছিলাম। রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা কলেজ মোড়ে পুলিশ আমাদের বাস থেকে নামিয়ে দিয়েছে। পুলিশ গাড়িগুলো আটকে রেখেছিল। এরপর প্রায় ১৩ কিলোমিটার রাস্তা আমরা হেঁটে এসেছি।’

পাবনার বেড়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘লাল কার্ড’ দেখাতে সব বাধা অতিক্রম করে আমরা তিন দিন আগেই সমাবেশস্থলে এসে হাজির হয়েছি। যত কষ্টই হোক, সমাবেশ সফল করেই ফিরব আমরা।’

এদিকে রাজশাহীর এই সমাবেশে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ জড়ো করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। যদিও এই সমাবেশের আগে গত ২৬ নভেম্বর মহাসড়ক থেকে নছিমন, করিমন, ভটভটিসহ অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করাসহ ১১টি দাবি জানায় পরিবহন মালিক সমিতি। দাবি আদায় না হলে ১ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।

তবে এসব দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো পর্যায় থেকে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়নি। ফলে আলটিমেটাম অনুযায়ী পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই পরিবহন ধর্মঘটের সঙ্গে মালিক-শ্রমিকের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সমাবেশে নেতাকর্মীদের আগমন ঠেকাতে এই ধর্মঘট সরকারের চাপিয়ে দেওয়া। এর আগেও বিএনপির অন্যান্য বিভাগীয় সমাবেশের আগে ওই এলাকায় ধর্মঘট হয়েছে।

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ । রিপু /প্রতিদিনের পোস্ট