ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে ডা. জুবায়ের সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণে অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন বখাটের ব্ল্যাকমেইলের শিকার নবম শ্রেণীর ছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ “ফ্রি ফায়ার” গেম নিয়ে মৌলভীবাজারে সংঘর্ষ বজ্রঘাতে পাঁচ চা-শ্রমিক নারী আহত কালীগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত স্ক্রিনিং সাফল্যে প্রথম শ্রীমঙ্গল উপজেলার ডা. সিনথিয়া তাসমিন কালীগঞ্জে ভুমিসেবা মেলায় কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ সাংবাদিকতায় বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে: প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান কালীগঞ্জে সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্ণীতি অভিযোগ বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য বিক্রি, কালীগঞ্জে দুই হোটেলকে জরিমানা

নবীনগরে জমি বিরোধের জেরে ভাতিজার দায়ের কোপে চাচার কব্জি বিচ্ছিন্ন

খন্দকার মোঃ আলমগীর হোসেন
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
  • / ৪২৩ বার পড়া হয়েছে
১৫২

পৈত্রিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পারিবারিক কলহের এক ভয়ংকর ও নৃশংস পরিণতি দেখলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা। আপন ভাতিজার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক চাচার বাম হাতের কব্জি শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুরে উপজেলার নাটঘর ইউনিয়ন এর চড়িলাম গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় চাচাকে উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

আহত চাচার নাম রফিকুল ইসলাম (৪৮)। তিনি চড়িলাম গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত ভাতিজার নাম বাইজিদ (২৫)। সে আহত রফিকুল ইসলামের আপন বড় ভাই দুধন মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম এবং তার বড় ভাই দুধন মিয়ার মধ্যে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া কিছু জমির মাটি কাটা ও তার হিসাব-নিকাশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই পারিবারিক কলহ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রায়শই বাকবিতণ্ডা, ঝগড়া ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হতো। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বেশ কয়েকবার বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি। পারিবারিক এই বিরোধ ধীরে ধীরে তিক্ত আকার ধারণ করে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পূর্বের সেই বিরোধের জের ধরে চাচা রফিকুল ইসলাম ও ভাই দুধন মিয়ার মধ্যে পুনরায় তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে দুধন মিয়ার ছেলে বাইজিদ সেখানে চলে আসে এবং তার চাচা রফিকুল ইসলামের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাইজিদ হাতে থাকা একটি ধারালো দা দিয়ে অতর্কিতভাবে চাচা রফিকুল ইসলামের উপর হামলা চালায়। সে রফিকুল ইসলামের বাম হাতের কব্জিতে সজোরে একাধিক কোপ দেয়। ধারালো দায়ের আঘাতে রফিকুল ইসলামের বাম হাতের কব্জি মাংসপেশী ও হাড় সহ প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

হঠাৎ এমন ভয়াবহ হামলায় রফিকুল ইসলাম তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন। তারা এসে দেখেন রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় রফিকুল ইসলাম মাটিতে ছটফট করছেন এবং তার বাম হাতের কব্জি ভয়াবহভাবে জখম হয়ে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে উপস্থিত সকলেই স্তম্ভিত হয়ে যান। বিলম্ব না করে স্থানীয় লোকজন দ্রুত রক্তাক্ত অবস্থায় রফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করেন এবং চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ঢাকায় তার চিকিৎসা চলছে এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া কব্জিটি প্রতিস্থাপন সম্ভব হবে কিনা, তা চিকিৎসকরা নিশ্চিত করতে পারেননি। তার শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।

পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এমন একটি নৃশংস ও বর্বরোচিত ঘটনা ঘটায় চড়িলাম গ্রাম সহ নবীনগরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও ভয় বিরাজ করছে। অনেকে জানান, জমি নিয়ে বিরোধ এতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তা তাদের কল্পনারও অতীত ছিল। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ভাতিজা বাইজিদ গা ঢাকা দিয়েছে এবং তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। গ্রামবাসী দ্রুত বাইজিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর ইসলাম জানান, “আমরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিচ্ছি। পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে, এখন পর্যন্ত আহত ব্যক্তির পরিবার বা অন্য কারো পক্ষ থেকে থানায় লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।” ওসি আরও বলেন, “অভিযোগ পেলেই আমরা দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি এবং অভিযুক্ত ভাতিজা বাইজিদ পলাতক রয়েছে। ঘটনার পর থেকে চড়িলাম গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

নবীনগরে জমি বিরোধের জেরে ভাতিজার দায়ের কোপে চাচার কব্জি বিচ্ছিন্ন

প্রকাশের সময় : ০৬:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
১৫২

পৈত্রিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পারিবারিক কলহের এক ভয়ংকর ও নৃশংস পরিণতি দেখলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা। আপন ভাতিজার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক চাচার বাম হাতের কব্জি শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুরে উপজেলার নাটঘর ইউনিয়ন এর চড়িলাম গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় চাচাকে উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

আহত চাচার নাম রফিকুল ইসলাম (৪৮)। তিনি চড়িলাম গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত ভাতিজার নাম বাইজিদ (২৫)। সে আহত রফিকুল ইসলামের আপন বড় ভাই দুধন মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম এবং তার বড় ভাই দুধন মিয়ার মধ্যে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া কিছু জমির মাটি কাটা ও তার হিসাব-নিকাশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই পারিবারিক কলহ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রায়শই বাকবিতণ্ডা, ঝগড়া ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হতো। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বেশ কয়েকবার বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি। পারিবারিক এই বিরোধ ধীরে ধীরে তিক্ত আকার ধারণ করে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পূর্বের সেই বিরোধের জের ধরে চাচা রফিকুল ইসলাম ও ভাই দুধন মিয়ার মধ্যে পুনরায় তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে দুধন মিয়ার ছেলে বাইজিদ সেখানে চলে আসে এবং তার চাচা রফিকুল ইসলামের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাইজিদ হাতে থাকা একটি ধারালো দা দিয়ে অতর্কিতভাবে চাচা রফিকুল ইসলামের উপর হামলা চালায়। সে রফিকুল ইসলামের বাম হাতের কব্জিতে সজোরে একাধিক কোপ দেয়। ধারালো দায়ের আঘাতে রফিকুল ইসলামের বাম হাতের কব্জি মাংসপেশী ও হাড় সহ প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

হঠাৎ এমন ভয়াবহ হামলায় রফিকুল ইসলাম তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন। তারা এসে দেখেন রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় রফিকুল ইসলাম মাটিতে ছটফট করছেন এবং তার বাম হাতের কব্জি ভয়াবহভাবে জখম হয়ে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে উপস্থিত সকলেই স্তম্ভিত হয়ে যান। বিলম্ব না করে স্থানীয় লোকজন দ্রুত রক্তাক্ত অবস্থায় রফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করেন এবং চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ঢাকায় তার চিকিৎসা চলছে এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া কব্জিটি প্রতিস্থাপন সম্ভব হবে কিনা, তা চিকিৎসকরা নিশ্চিত করতে পারেননি। তার শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।

পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এমন একটি নৃশংস ও বর্বরোচিত ঘটনা ঘটায় চড়িলাম গ্রাম সহ নবীনগরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও ভয় বিরাজ করছে। অনেকে জানান, জমি নিয়ে বিরোধ এতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তা তাদের কল্পনারও অতীত ছিল। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ভাতিজা বাইজিদ গা ঢাকা দিয়েছে এবং তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। গ্রামবাসী দ্রুত বাইজিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর ইসলাম জানান, “আমরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিচ্ছি। পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে, এখন পর্যন্ত আহত ব্যক্তির পরিবার বা অন্য কারো পক্ষ থেকে থানায় লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।” ওসি আরও বলেন, “অভিযোগ পেলেই আমরা দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি এবং অভিযুক্ত ভাতিজা বাইজিদ পলাতক রয়েছে। ঘটনার পর থেকে চড়িলাম গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।