ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’প্লাস ক্যাম্পেইন; লক্ষ্যমাত্রা ৩৬ হাজারেরও বেশি শিশুর মৌলভীবাজার মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার পাচার রোধে আন্তর্জাতিক মাল্টি দিবস পালিত মৌলভীবাজারে এনসিপি’র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে দলের নেতাকে অপহরণের অভিযোগ শ্রীমঙ্গলে গ্লাসের আঘাতে যুবক খুন; অভিযুক্ত গ্রেপ্তার বাঁশঝাড়ের বাগান থেকে ৫টি এয়ারগান উদ্ধার ১৮ লাখ টাকার ভারতীয় ফুসকা জব্দ জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে অবৈধভাবে বালু রাখা ব্যবসায়ীকে জরিমানা শিশু ও নারীসহ ৭জনকে পুশইন করলো বিএসএফ কালীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

“৪৯ বসন্ত পেড়িয়ে ঐশ্বরিয়া”

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫৯:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর ২০২২
  • / ৪৯৩ বার পড়া হয়েছে
৮৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি || “৪৯ বসন্ত পেড়িয়ে ঐশ্বরিয়া”।

এক যুগ ধরে চা বানানোর টুং টং শব্দে চা বিক্রি করে জীবন চলছে খুদেজা বেগমের। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউপির গজারিয়া গ্রামের মৃ.ত বাহার মিয়ার স্ত্রী খুদেজা বেগম।

তার স্বামী প্রায় ১২ বছর আগে মা.রা যায়। স্বামীর মৃ.ত্যুর পর থেকেই স্বামীর বানানো চার দোকানেই শুরু হয় তার জীবন সংগ্রাম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ১ যুগ আগে খুদেজা বেগমের স্বামী বাহার মিয়া মা.রা যান। খুদেজা বেগম ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ে সন্তানের জননী। ২ ছেলেকে বিয়ে করিয়েছেন ও ৪ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। জীবন সংগ্রমের সব দায়িত্ব তার কাঁধে। ছোট ছেলে তেমন কিছু করেন না।

সরেজমিন দেখা যায়, সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউপির গজাড়িয়া গ্রামে নিজ ঘরের সামনের অংশটুকুতে খুদেজা বেগমের চায়ের দোকান। দোকানে প্রতিদিন সকাল শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলে তার চা তৈরির কার্যক্রম। চায়ের পাশাপাশি বিস্কুট, রুটি, কলা, পান, সিগারেট বিক্রি করেন তিনি। দোকানে নেই তার কোনো সহযোগী। নিজেই চা তৈরিসহ বিভিন্ন জিনিস ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। পাশাপাশি বিলের টাকা-পয়সা নেয়া থেকে সব কাজ একাই করছেন খুদেজা।

খুদেজা বেগম জানান, আমার স্বামী মা.রা যাওয়ার আগে বেবি ট্যাক্সি চালানোর পাশাপাশি এই চায়ের টং ঘর টা চালাতো। এই চায়ের টং ঘরটির বয়স প্রায় দুই যুগ। স্বামী মা.রা যাওয়ার পর থেকে এই টং ঘরটি আমি নিজেই পরিচালনা করে আসছি। দুই ছেলে বিয়ে করে তাদের বউ নিয়ে আলাদা সংসার করে। ৪ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, করোনা কালীন সময়ে ব্যবসা নিয়ে খুব বিপদে পড়েছিলাম। বিআরডিবির একটি প্রকল্প থেকে ঋণ গ্রহন করেছিলাম। তখন বিআরডিবি অফিস আমাকে স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে সদর উপজেলায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী উদ্যোক্তা প্রণোদনা ১ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে। এই প্রণোধনার টাকাটা আমার এই ব্যবসায় খুব কাজে এসেছে।

তিনি আরো বলেন, স্বামী হারা ১২ বছর। এখনো কোন বিধবা ভাতা পায়নি। অনেক আগে বয়স্ক ভাতার জন্য মেম্বারকে বলেছিলাম, তবে তাও পাইনি।

খুদেজা বলেন, চা বিক্রি করে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ শত টাকা রুজি হয়। চা বিক্রি করে কোনো মতে জীবনযাপন করছি। দোকান চালাতে কষ্ট হয়, কারণ বয়স হয়েছে। তারপরও কী আর করবো। বাড়ির ৪ শতক জায়গায় আমার সম্পদ। আর কোনো জমি-জমা, সহায় সম্পদ নেই। সরকারি-বেসরকারি ভাতা, দান-অনুদান, সাহায্য-সহযোগিতা কিছুই পাই না।

গজারিয়া এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া বেগম বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ খুদেজা চাচির দোকানে চা পান করতে আসেন। তার স্বামী, বাবা-মা মা.রা গেছেন অনেক আগে। বিয়ের পর দুই ছেলে আলাদা থাকে। চা বিক্রি করে একাই অনেক কষ্ট করে ছেলে-মেয়েদের বড় করেছেন।

গজারিয়া এলাকার বাসিন্দা শিশু মিয়া বলেন, খুদেজা আপা জীবন যু.দ্ধে সংগ্রামী একজন মানুষ। তিনি জীবন যু.দ্ধে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। স্বামী হারা খুদেজা আপা চা বিক্রি করে পুরা সংসার চালাচ্ছেন। আমি প্রায় সময় তার টং চা পান করতে আসি।

সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফারুক-ই-আজম জানান, খুদেজা বেগম বিআরডিবি অন্তর্ভুক্ত সদাবিক প্রকল্পের একজন সদস্য। করোনাকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী উদ্যোক্তাদের মাঝে সরকার স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে সদর উপজেলায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রণোদনা ঋণ দেয়। তখন ক্ষতিগ্রস্ত খুদেজা বেগমকে ১ লাখ প্রণোদনার ঋণ দেওয়া হয়।

মাছিহাতা মডেল ইউপি চেয়ারম্যান আলামিনুল হক পাভেল জানান, তিনি কখনো আমার কাছে আসেন নি। করোনাকালীন দীর্ঘ দিন ধরে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা বন্ধ রয়েছে। খুদেজা বেগমের বয়স ৬২ না হওয়ায় বয়স্ক ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত নন। তার বিধবা ভাতা করে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। সরকারি নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে তাকে সাধ্যমতো সহায়তায় করা হবে।

প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

“৪৯ বসন্ত পেড়িয়ে ঐশ্বরিয়া”

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৯:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর ২০২২
৮৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি || “৪৯ বসন্ত পেড়িয়ে ঐশ্বরিয়া”।

এক যুগ ধরে চা বানানোর টুং টং শব্দে চা বিক্রি করে জীবন চলছে খুদেজা বেগমের। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউপির গজারিয়া গ্রামের মৃ.ত বাহার মিয়ার স্ত্রী খুদেজা বেগম।

তার স্বামী প্রায় ১২ বছর আগে মা.রা যায়। স্বামীর মৃ.ত্যুর পর থেকেই স্বামীর বানানো চার দোকানেই শুরু হয় তার জীবন সংগ্রাম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ১ যুগ আগে খুদেজা বেগমের স্বামী বাহার মিয়া মা.রা যান। খুদেজা বেগম ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ে সন্তানের জননী। ২ ছেলেকে বিয়ে করিয়েছেন ও ৪ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। জীবন সংগ্রমের সব দায়িত্ব তার কাঁধে। ছোট ছেলে তেমন কিছু করেন না।

সরেজমিন দেখা যায়, সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউপির গজাড়িয়া গ্রামে নিজ ঘরের সামনের অংশটুকুতে খুদেজা বেগমের চায়ের দোকান। দোকানে প্রতিদিন সকাল শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলে তার চা তৈরির কার্যক্রম। চায়ের পাশাপাশি বিস্কুট, রুটি, কলা, পান, সিগারেট বিক্রি করেন তিনি। দোকানে নেই তার কোনো সহযোগী। নিজেই চা তৈরিসহ বিভিন্ন জিনিস ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। পাশাপাশি বিলের টাকা-পয়সা নেয়া থেকে সব কাজ একাই করছেন খুদেজা।

খুদেজা বেগম জানান, আমার স্বামী মা.রা যাওয়ার আগে বেবি ট্যাক্সি চালানোর পাশাপাশি এই চায়ের টং ঘর টা চালাতো। এই চায়ের টং ঘরটির বয়স প্রায় দুই যুগ। স্বামী মা.রা যাওয়ার পর থেকে এই টং ঘরটি আমি নিজেই পরিচালনা করে আসছি। দুই ছেলে বিয়ে করে তাদের বউ নিয়ে আলাদা সংসার করে। ৪ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, করোনা কালীন সময়ে ব্যবসা নিয়ে খুব বিপদে পড়েছিলাম। বিআরডিবির একটি প্রকল্প থেকে ঋণ গ্রহন করেছিলাম। তখন বিআরডিবি অফিস আমাকে স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে সদর উপজেলায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী উদ্যোক্তা প্রণোদনা ১ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে। এই প্রণোধনার টাকাটা আমার এই ব্যবসায় খুব কাজে এসেছে।

তিনি আরো বলেন, স্বামী হারা ১২ বছর। এখনো কোন বিধবা ভাতা পায়নি। অনেক আগে বয়স্ক ভাতার জন্য মেম্বারকে বলেছিলাম, তবে তাও পাইনি।

খুদেজা বলেন, চা বিক্রি করে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ শত টাকা রুজি হয়। চা বিক্রি করে কোনো মতে জীবনযাপন করছি। দোকান চালাতে কষ্ট হয়, কারণ বয়স হয়েছে। তারপরও কী আর করবো। বাড়ির ৪ শতক জায়গায় আমার সম্পদ। আর কোনো জমি-জমা, সহায় সম্পদ নেই। সরকারি-বেসরকারি ভাতা, দান-অনুদান, সাহায্য-সহযোগিতা কিছুই পাই না।

গজারিয়া এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া বেগম বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ খুদেজা চাচির দোকানে চা পান করতে আসেন। তার স্বামী, বাবা-মা মা.রা গেছেন অনেক আগে। বিয়ের পর দুই ছেলে আলাদা থাকে। চা বিক্রি করে একাই অনেক কষ্ট করে ছেলে-মেয়েদের বড় করেছেন।

গজারিয়া এলাকার বাসিন্দা শিশু মিয়া বলেন, খুদেজা আপা জীবন যু.দ্ধে সংগ্রামী একজন মানুষ। তিনি জীবন যু.দ্ধে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। স্বামী হারা খুদেজা আপা চা বিক্রি করে পুরা সংসার চালাচ্ছেন। আমি প্রায় সময় তার টং চা পান করতে আসি।

সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফারুক-ই-আজম জানান, খুদেজা বেগম বিআরডিবি অন্তর্ভুক্ত সদাবিক প্রকল্পের একজন সদস্য। করোনাকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী উদ্যোক্তাদের মাঝে সরকার স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে সদর উপজেলায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রণোদনা ঋণ দেয়। তখন ক্ষতিগ্রস্ত খুদেজা বেগমকে ১ লাখ প্রণোদনার ঋণ দেওয়া হয়।

মাছিহাতা মডেল ইউপি চেয়ারম্যান আলামিনুল হক পাভেল জানান, তিনি কখনো আমার কাছে আসেন নি। করোনাকালীন দীর্ঘ দিন ধরে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা বন্ধ রয়েছে। খুদেজা বেগমের বয়স ৬২ না হওয়ায় বয়স্ক ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত নন। তার বিধবা ভাতা করে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। সরকারি নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে তাকে সাধ্যমতো সহায়তায় করা হবে।