একের পর এক অঘটন, আর আমরা বসে থাকব?’—জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি
- প্রকাশের সময় : ০২:৪০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 9 বার পড়া হয়েছে
সরকারের ভুলের দায় বিরোধী দল কেন নেবে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সংসদে দায়িত্বশীল ও বিবেকবান বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখতে চায় জামায়াত। সরকারের ভালো উদ্যোগে সমর্থন দিলেও ভুল ও অনিয়মের সমালোচনা থেকে পিছিয়ে আসবেন না তারা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, প্রশাসনের দলীয়করণ, গণমাধ্যমের ভূমিকা, প্রবাসীদের অধিকার ও জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটার পর একটা অঘটন ঘটবে, আর আমরা কি বসে থাকব? ইতিহাস কি আমাদের ক্ষমা করবে? সরকারের ভুলের দায় বিরোধী দল নেবে কেন?’
অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একসময় সরকারি দলের সবকিছু ভালো এবং বিরোধী দলের সবকিছু খারাপ হিসেবে তুলে ধরা হতো। এমনকি সরকারি দল কিছু বলার আগেই বিরোধী দল সমর্থন জানিয়ে দিত। এখন জামায়াত প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্বে রয়েছে। কেউ চান, তারা সংসদে ভাঙচুর করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করুন। আবার সরকারি দল চায়, তারা সব বিষয়ে সমর্থন দিক। তবে এ দুই অবস্থানের কোনোটিই গ্রহণ করতে চান না তারা।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, পুলিশের মধ্যে অনেক দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজে আরও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মাদক নির্মূলে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া এবং সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) দলীয়করণের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার প্রশ্ন, জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পরিবর্তে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হলো না কেন?
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিকে রাজনৈতিক দলের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজরা কোনো দলের নয়; তারা দলকে ডুবিয়ে দেন। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নীতির প্রশ্নে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, কেউ ভুল করলে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।
নিজ দলের এক সংসদ সদস্যকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সংসদ সদস্যকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে তারা ২৪ ঘণ্টাও সময় নেননি। তার সঙ্গে দলের আর কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান জামায়াত আমির।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের কোথায় কী ঘটছে, তা সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। তবে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার পেছনে সংবাদমাধ্যমেরও দায় থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সৌদি আরবের কারাগারে সাত হাজারের বেশি বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী তাদের বিচার হবে। তবে এসব বন্দির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করা উচিত, যাতে তাঁরা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন কি না, তা জানা যায়।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তারা জোটগতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবেন না। অতীতেও তারা এভাবে নির্বাচন করেননি। আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



























