ঢাকা , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খাবার ঠান্ডা হোক, ছবি চাই! খাওয়ার আগে ছবি তোলার নেপথ্যে কী? ট্রাম্পকে হত্যার ছক, হোয়াইট হাউসের কাছে অস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার জাতীয় সংগীত অবমাননার অভিযোগ পরীমণির বিরুদ্ধে, কী শাস্তি হতে পারে? গঙ্গাচড়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে নানা আয়োজন ‎ মানবিকতার পুরস্কার, অসুস্থ ব্যক্তির পাশে দাঁড়িয়ে পেলেন সম্মান অভিনয়শিল্পী সংঘ থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত তানজিন তিশা কালীগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে ২১৩ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মেধা সিঁড়ি প্রাথমিক শিক্ষাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত তাহসিফ হত্যা মামলায় নতুন মোড়, কারাগারে অভিযুক্ত তরুণী কফি খেতে ডাকলেন জয়া, বিল দেওয়ার দায়িত্ব ভক্তের!

খাবার ঠান্ডা হোক, ছবি চাই! খাওয়ার আগে ছবি তোলার নেপথ্যে কী?

নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
  • প্রকাশের সময় : ১০:১৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / 7 বার পড়া হয়েছে

রেস্তোরাঁয় পছন্দের খাবার টেবিলে আসার পর খাওয়া শুরুর আগেই অনেকের ব্যস্ততা শুরু হয় ছবি তোলায়। ছবি তোলার পর সেগুলো জায়গা করে নেয় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা স্টোরিতে। খাবার ঠান্ডা হয়ে গেলেও পছন্দমতো ছবি না পাওয়া পর্যন্ত যেন খাওয়ার তাড়া নেই। কিন্তু খাবার সামনে পেয়েও খাওয়ার আগে ছবি তোলার এত আগ্রহ কেন?

সুন্দর খাবার দেখলে ছবি তুলতে ইচ্ছা হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ কোনো আয়োজন, নতুন রেস্তোরাঁয় যাওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে চান অনেকে। তবে সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন খাবারের স্বাদ নেওয়ার চেয়ে ছবিকে নিখুঁত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোন অ্যাঙ্গেলে ছবি ভালো আসবে, আলো ঠিক আছে কী না কিংবা খাবারের রং কতটা আকর্ষণীয় দেখাচ্ছে- এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকতে গিয়ে অনেক সময় খাবার উপভোগের সুযোগই নষ্ট হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাবারের ছবি পোস্ট করে লাইক, কমেন্ট কিংবা প্রশংসা পেলে ভালো লাগা স্বাভাবিক। মনোবিজ্ঞানে এ ধরনের প্রতিক্রিয়াকে সামাজিক স্বীকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখা হয়। কেউ নতুন ক্যাফেতে গিয়ে কফির ছবি পোস্ট করেন, কেউ আবার নামীদামি রেস্তোরাঁর খাবার তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে শুধু খাবার নয়, নিজের পছন্দ, রুচি ও জীবনযাপনের ধরনও অন্যদের সামনে তুলে ধরেন। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে চোখে পড়ে নান্দনিক খাবারের ছবি, সুন্দর ক্যাফে কিংবা বন্ধুদের রেস্তোরাঁয় কাটানো মুহূর্ত। এসব দেখে অনেকেরই একই ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জনের ইচ্ছা তৈরি হয়। একইভাবে নিজের অভিজ্ঞতাও অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান।

মনোবিজ্ঞানে ফিয়ার অব মিসিং আউট বা ফোমো বলতে অন্যদের আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা থেকে নিজে বাদ পড়ে যাওয়ার ভয় বা অস্বস্তিকে বোঝায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের জীবনযাপন দেখে তৈরি হওয়া এই অনুভূতি নিজের মুহূর্তগুলো শেয়ার করার আগ্রহ বাড়াতে পারে।

খাবারের ছবি তোলার পেছনে সব সময় অন্যকে দেখানোর উদ্দেশ্য থাকে না। অনেকের কাছে এটি শুধু আনন্দ ও সৃজনশীলতার প্রকাশ। সুন্দর করে সাজানো খাবার, কফির কাপের ওপর নকশা, রেস্তোরাঁর আলো কিংবা টেবিলের সাজসজ্জা তাদের আকৃষ্ট করে। এসব মুহূর্ত ছবিতে ধরে রাখতেও ভালোবাসেন অনেকে।

খাবারের ছবি তোলায় সমস্যা নেই। তবে ছবি তুলতে গিয়ে সামনের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা খাবারের স্বাদ উপভোগ করাই যেন গৌণ হয়ে না পড়ে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় সবাই যদি ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে একসঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দও ম্লান হয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুন্দর একটি ছবি অনেকের প্রশংসা পেতে পারে। কিন্তু সেই মুহূর্তের প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করতে হবে নিজেকেই। তাই খাবারের ছবি তুলুন, স্মৃতি ধরে রাখুন, পছন্দের মুহূর্ত ভাগ করে নিন। তবে, ক্যামেরার পাশাপাশি খাবার ও সঙ্গে থাকা মানুষগুলোর দিকেও মনোযোগ দিন।

সূত্র : গালফ নিউজ, ভেরি ওয়েল মাইন্ড ও ইন্ডিয়া টুডে

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

খাবার ঠান্ডা হোক, ছবি চাই! খাওয়ার আগে ছবি তোলার নেপথ্যে কী?

প্রকাশের সময় : ১০:১৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

রেস্তোরাঁয় পছন্দের খাবার টেবিলে আসার পর খাওয়া শুরুর আগেই অনেকের ব্যস্ততা শুরু হয় ছবি তোলায়। ছবি তোলার পর সেগুলো জায়গা করে নেয় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা স্টোরিতে। খাবার ঠান্ডা হয়ে গেলেও পছন্দমতো ছবি না পাওয়া পর্যন্ত যেন খাওয়ার তাড়া নেই। কিন্তু খাবার সামনে পেয়েও খাওয়ার আগে ছবি তোলার এত আগ্রহ কেন?

সুন্দর খাবার দেখলে ছবি তুলতে ইচ্ছা হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ কোনো আয়োজন, নতুন রেস্তোরাঁয় যাওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে চান অনেকে। তবে সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন খাবারের স্বাদ নেওয়ার চেয়ে ছবিকে নিখুঁত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোন অ্যাঙ্গেলে ছবি ভালো আসবে, আলো ঠিক আছে কী না কিংবা খাবারের রং কতটা আকর্ষণীয় দেখাচ্ছে- এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকতে গিয়ে অনেক সময় খাবার উপভোগের সুযোগই নষ্ট হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাবারের ছবি পোস্ট করে লাইক, কমেন্ট কিংবা প্রশংসা পেলে ভালো লাগা স্বাভাবিক। মনোবিজ্ঞানে এ ধরনের প্রতিক্রিয়াকে সামাজিক স্বীকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখা হয়। কেউ নতুন ক্যাফেতে গিয়ে কফির ছবি পোস্ট করেন, কেউ আবার নামীদামি রেস্তোরাঁর খাবার তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে শুধু খাবার নয়, নিজের পছন্দ, রুচি ও জীবনযাপনের ধরনও অন্যদের সামনে তুলে ধরেন। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে চোখে পড়ে নান্দনিক খাবারের ছবি, সুন্দর ক্যাফে কিংবা বন্ধুদের রেস্তোরাঁয় কাটানো মুহূর্ত। এসব দেখে অনেকেরই একই ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জনের ইচ্ছা তৈরি হয়। একইভাবে নিজের অভিজ্ঞতাও অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান।

মনোবিজ্ঞানে ফিয়ার অব মিসিং আউট বা ফোমো বলতে অন্যদের আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা থেকে নিজে বাদ পড়ে যাওয়ার ভয় বা অস্বস্তিকে বোঝায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের জীবনযাপন দেখে তৈরি হওয়া এই অনুভূতি নিজের মুহূর্তগুলো শেয়ার করার আগ্রহ বাড়াতে পারে।

খাবারের ছবি তোলার পেছনে সব সময় অন্যকে দেখানোর উদ্দেশ্য থাকে না। অনেকের কাছে এটি শুধু আনন্দ ও সৃজনশীলতার প্রকাশ। সুন্দর করে সাজানো খাবার, কফির কাপের ওপর নকশা, রেস্তোরাঁর আলো কিংবা টেবিলের সাজসজ্জা তাদের আকৃষ্ট করে। এসব মুহূর্ত ছবিতে ধরে রাখতেও ভালোবাসেন অনেকে।

খাবারের ছবি তোলায় সমস্যা নেই। তবে ছবি তুলতে গিয়ে সামনের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা খাবারের স্বাদ উপভোগ করাই যেন গৌণ হয়ে না পড়ে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় সবাই যদি ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে একসঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দও ম্লান হয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুন্দর একটি ছবি অনেকের প্রশংসা পেতে পারে। কিন্তু সেই মুহূর্তের প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করতে হবে নিজেকেই। তাই খাবারের ছবি তুলুন, স্মৃতি ধরে রাখুন, পছন্দের মুহূর্ত ভাগ করে নিন। তবে, ক্যামেরার পাশাপাশি খাবার ও সঙ্গে থাকা মানুষগুলোর দিকেও মনোযোগ দিন।

সূত্র : গালফ নিউজ, ভেরি ওয়েল মাইন্ড ও ইন্ডিয়া টুডে