ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আদালত চত্বর থেকে পুলিশের বাইক চুরি, তদন্তে বেরিয়ে এলো চোরচক্রের নেটওয়ার্ক বিদ্যাকুটে বশির সমর্থকদের বিশাল মিছিল, চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ঘিরে আলোচনা নবীনগরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে সেমিনার ও আলোচনা সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ডেঙ্গু রোগী ৪৯, হাসপাতালে ভর্তি ৯১ ধুলাবালিতে খালেদা জিয়ার ছবি, গঙ্গাচড়ায় তদন্ত কমিটি গঙ্গাচড়ায় কাব স্কাউটদের ক্যাম্পফায়ারে শেষ হলো চার দিনের ক্যাম্পুরি স্বাস্থ্যসেবায় ডা.সিনথিয়া তাসমিন দেশে দ্বিতীয়, বিভাগে স্ক্রিনিংয়ে শ্রেষ্ঠ সিলেটের জিডিএফ’র স্থায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও আধুনিক ভবন নির্মাণ বিষয়ে সিসিক বরাবরে স্মারকলিপি পেশ

আদালত চত্বর থেকে পুলিশের বাইক চুরি, তদন্তে বেরিয়ে এলো চোরচক্রের নেটওয়ার্ক

মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল
মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ১০:৩৯:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 2 বার পড়া হয়েছে

রংপুর মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরও নিরাপদ নয়—পুলিশ কর্মকর্তার মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। একটি মোটরসাইকেল চুরির সূত্র ধরে বেরিয়ে এসেছে আন্তজেলা চোরচক্রের সন্ধান। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চক্রটির চার সদস্য। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুরের বিভিন্ন এলাকা ও একটি রিকন্ডিশন বাইকের দোকান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নয়টি চোরাই মোটরসাইকেল। এর মধ্যে একটি দোকান থেকেই মিলেছে ছয়টি।
‎
‎পুলিশ বলছে, চক্রটি এক এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে অন্য এলাকায় সরিয়ে নিয়ে বিক্রি কিংবা হাতবদল করত। চোরাই মোটরসাইকেল কোথা থেকে আসত, কার মাধ্যমে সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাত এবং বিক্রির সঙ্গে কারা জড়িত—এসব এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য।
‎
‎বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) মিলন কুমার চ্যাটার্জি।
‎
‎গ্রেপ্তাররা হলেন—মিঠাপুকুরের কয়ারমারী এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান (২৮), পীরগঞ্জের শাহাপাড়া-হাজীপুর এলাকার হুমায়ুন কবীর ওরফে রাব্বী (১৯), বদরগঞ্জের কুতুবপুর বালুয়াপাড়ার ওবায়দুল হক (৩৪) এবং জামুবাড়ী-যাদুনগর এলাকার রমজান আলী (১৯)। চক্রের রাহাত মিয়া (২০) নামে আরও একজন পলাতক রয়েছেন।
‎
‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতের ১০ তলা ভবনের নিচে সিঁড়ির পাশে মোটরসাইকেল রেখে কোর্ট হাজতখানার আসামি সংক্রান্ত কাজে কোর্ট ইন্সপেক্টরের সঙ্গে দেখা করতে যান কোতয়ালী থানার এসআই রিয়াজুল ইসলাম। ফিরে এসে দেখেন, তার মোটরসাইকেলটি উধাও।
‎
‎ঘটনায় মামলা হওয়ার পর আদালত চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। ফুটেজে কয়েকজনকে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যেতে দেখা যায়। সেই সূত্র ধরে শুরু হয় শনাক্তকরণ ও অভিযান।
‎
‎একপর্যায়ে ফুটেজে শনাক্ত মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের আরও তিন সদস্যকে।
‎
‎পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, রংপুর মহানগর ও বদরগঞ্জে অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার করা হয় নয়টি চোরাই মোটরসাইকেল। সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে বদরগঞ্জের সিও রোড ব্রিজসংলগ্ন মেসার্স মুগ্ধ রিকন্ডিশন বাইক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় ছয়টি চোরাই মোটরসাইকেল।
‎
‎একটি রিকন্ডিশন বাইকের দোকান থেকে একসঙ্গে ছয়টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের ঘটনায় চক্রটির বেচাকেনার নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে পুলিশকে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত মালিক, এগুলো কোথা থেকে চুরি করা হয়েছে এবং কার মাধ্যমে দোকানে পৌঁছেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল।
‎
‎পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেপ্তাররা সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে সেগুলো অন্য এলাকায় সরিয়ে নিত। এরপর বিক্রি বা হাতবদলের মাধ্যমে চোরাই বাইকগুলো বাজারে ছাড়ত। এ নেটওয়ার্কে আন্তজেলা পর্যায়ে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
‎
‎ওসি (তদন্ত) মিলন কুমার চ্যাটার্জি বলেন, গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং চোরাই মোটরসাইকেল কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হয়েছে, তা জানতে তাদের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
‎
‎তিনি বলেন, পলাতক রাহাত মিয়াসহ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
‎

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

আদালত চত্বর থেকে পুলিশের বাইক চুরি, তদন্তে বেরিয়ে এলো চোরচক্রের নেটওয়ার্ক

প্রকাশের সময় : ১০:৩৯:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রংপুর মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরও নিরাপদ নয়—পুলিশ কর্মকর্তার মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। একটি মোটরসাইকেল চুরির সূত্র ধরে বেরিয়ে এসেছে আন্তজেলা চোরচক্রের সন্ধান। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চক্রটির চার সদস্য। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুরের বিভিন্ন এলাকা ও একটি রিকন্ডিশন বাইকের দোকান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নয়টি চোরাই মোটরসাইকেল। এর মধ্যে একটি দোকান থেকেই মিলেছে ছয়টি।
‎
‎পুলিশ বলছে, চক্রটি এক এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে অন্য এলাকায় সরিয়ে নিয়ে বিক্রি কিংবা হাতবদল করত। চোরাই মোটরসাইকেল কোথা থেকে আসত, কার মাধ্যমে সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাত এবং বিক্রির সঙ্গে কারা জড়িত—এসব এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য।
‎
‎বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) মিলন কুমার চ্যাটার্জি।
‎
‎গ্রেপ্তাররা হলেন—মিঠাপুকুরের কয়ারমারী এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান (২৮), পীরগঞ্জের শাহাপাড়া-হাজীপুর এলাকার হুমায়ুন কবীর ওরফে রাব্বী (১৯), বদরগঞ্জের কুতুবপুর বালুয়াপাড়ার ওবায়দুল হক (৩৪) এবং জামুবাড়ী-যাদুনগর এলাকার রমজান আলী (১৯)। চক্রের রাহাত মিয়া (২০) নামে আরও একজন পলাতক রয়েছেন।
‎
‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতের ১০ তলা ভবনের নিচে সিঁড়ির পাশে মোটরসাইকেল রেখে কোর্ট হাজতখানার আসামি সংক্রান্ত কাজে কোর্ট ইন্সপেক্টরের সঙ্গে দেখা করতে যান কোতয়ালী থানার এসআই রিয়াজুল ইসলাম। ফিরে এসে দেখেন, তার মোটরসাইকেলটি উধাও।
‎
‎ঘটনায় মামলা হওয়ার পর আদালত চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। ফুটেজে কয়েকজনকে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যেতে দেখা যায়। সেই সূত্র ধরে শুরু হয় শনাক্তকরণ ও অভিযান।
‎
‎একপর্যায়ে ফুটেজে শনাক্ত মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের আরও তিন সদস্যকে।
‎
‎পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, রংপুর মহানগর ও বদরগঞ্জে অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার করা হয় নয়টি চোরাই মোটরসাইকেল। সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে বদরগঞ্জের সিও রোড ব্রিজসংলগ্ন মেসার্স মুগ্ধ রিকন্ডিশন বাইক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় ছয়টি চোরাই মোটরসাইকেল।
‎
‎একটি রিকন্ডিশন বাইকের দোকান থেকে একসঙ্গে ছয়টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের ঘটনায় চক্রটির বেচাকেনার নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে পুলিশকে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত মালিক, এগুলো কোথা থেকে চুরি করা হয়েছে এবং কার মাধ্যমে দোকানে পৌঁছেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল।
‎
‎পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেপ্তাররা সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে সেগুলো অন্য এলাকায় সরিয়ে নিত। এরপর বিক্রি বা হাতবদলের মাধ্যমে চোরাই বাইকগুলো বাজারে ছাড়ত। এ নেটওয়ার্কে আন্তজেলা পর্যায়ে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
‎
‎ওসি (তদন্ত) মিলন কুমার চ্যাটার্জি বলেন, গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং চোরাই মোটরসাইকেল কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হয়েছে, তা জানতে তাদের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
‎
‎তিনি বলেন, পলাতক রাহাত মিয়াসহ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
‎