ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নারীদের গোপন ভিডিও ধারণ নিয়ে রণক্ষেত্র কাটখাল, সংঘর্ষে আহত অর্ধশত শেখ হাসিনার ফেরার সময় নিয়েই প্রশ্ন, ‘কোন ডিসেম্বর আসবেন?’ ভালো নেই দেশ, সরকারের কর্মকাণ্ডে বাড়ছে হতাশা: শফিকুর রহমান বোরকা পরা অবস্থায় এসে কৃষককে গলা কেটে হত্যা খেলাপি ঋণের বড় বোঝা ১০ ব্যাংকের কাঁধে, পরিমাণ ৭২ শতাংশ ‎‘অজ্ঞাত’ হয়ে মহাসড়কে লাশ, প্রযুক্তিতে মিলল কুলসুমের পরিচয় দ্য ডেইলি বাংলাদেশ ডায়েরির ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন গভীর রাতে পুকুরপাড়ে ‘রহস্যজনক’ গোলাবারুদ, জব্দ করল র‌্যাব প্রবাসীর স্ত্রীর বাথরুমে দুই যুবক, ‘সামলাতে না পেরে’ অতঃপর… স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ, মাটিচাপা অবস্থায় মিলল শিশুর মরদেহ

খেলাপি ঋণের বড় বোঝা ১০ ব্যাংকের কাঁধে, পরিমাণ ৭২ শতাংশ

নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
নিউজ ডেস্ক, প্রতিদিনের পোস্ট
  • প্রকাশের সময় : ০৩:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 13 বার পড়া হয়েছে

দেশের ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণের ৭২ শতাংশের বেশি রয়েছে মাত্র ১০টি ব্যাংকের কাছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা।

এই ১০ ব্যাংক হলো—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

খেলাপি ঋণের পরিমাণে শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ প্রায় ৯৮ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৫২ দশমিক ১৫ শতাংশ। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ৯২ হাজার ১১৫ কোটি টাকা বা ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ ছয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৭৫ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশ। ব্যাংকটির বড় ঝুঁকিতে থাকা ঋণের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা রয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপের কাছে। এ ছাড়া ক্রিসেন্ট গ্রুপ ও থার্মেক্স গ্রুপও বড় ঋণখেলাপিদের তালিকায় রয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণও বেড়ে হয়েছে ৩২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৪৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৩৮ হাজার ৫২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ব্যাংকটির মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৭১ শতাংশই খেলাপি।

এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬০ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৯৭ শতাংশ। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৯ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা বা ৭৮ শতাংশ এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৭ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা বা ৯৬ শতাংশ।

এই দুই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদেও এস আলম গ্রুপের বড় ধরনের প্রভাব ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে এবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২০ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৫৬ দশমিক ০৪ শতাংশ। ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৮ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা বা ৬৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

আইএফআইসি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৫২০ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের ৬৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ব্যাংকটির ওপর বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বড় ধরনের প্রভাব ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার মধ্যে মাত্র ১০টি ব্যাংকের কাছেই এর ৭২ শতাংশের বেশি কেন্দ্রীভূত হওয়ায় ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ট্যাগস :
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

খেলাপি ঋণের বড় বোঝা ১০ ব্যাংকের কাঁধে, পরিমাণ ৭২ শতাংশ

প্রকাশের সময় : ০৩:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণের ৭২ শতাংশের বেশি রয়েছে মাত্র ১০টি ব্যাংকের কাছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা।

এই ১০ ব্যাংক হলো—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

খেলাপি ঋণের পরিমাণে শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ প্রায় ৯৮ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৫২ দশমিক ১৫ শতাংশ। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ৯২ হাজার ১১৫ কোটি টাকা বা ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ ছয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৭৫ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশ। ব্যাংকটির বড় ঝুঁকিতে থাকা ঋণের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা রয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপের কাছে। এ ছাড়া ক্রিসেন্ট গ্রুপ ও থার্মেক্স গ্রুপও বড় ঋণখেলাপিদের তালিকায় রয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণও বেড়ে হয়েছে ৩২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৪৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৩৮ হাজার ৫২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ব্যাংকটির মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৭১ শতাংশই খেলাপি।

এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬০ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৯৭ শতাংশ। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৯ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা বা ৭৮ শতাংশ এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৭ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা বা ৯৬ শতাংশ।

এই দুই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদেও এস আলম গ্রুপের বড় ধরনের প্রভাব ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে এবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২০ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৫৬ দশমিক ০৪ শতাংশ। ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৮ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা বা ৬৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

আইএফআইসি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৫২০ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের ৬৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ব্যাংকটির ওপর বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বড় ধরনের প্রভাব ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার মধ্যে মাত্র ১০টি ব্যাংকের কাছেই এর ৭২ শতাংশের বেশি কেন্দ্রীভূত হওয়ায় ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।