ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অংশীদারদের না জানিয়ে ৩ আমগাছ বিক্রির অভিযোগ অবশেষে ধরা পড়লেন দক্ষিণের ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ চম্পা, আমতলীতে স্বস্তির হাওয়া শ্রীমঙ্গলে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শোভাযাত্রা কুলাউড়ায় ডাকাতির ঘটনায় ২ জনসহ গ্রেপ্তার-৭ আমতলীতে মাদক ব্যবসায়ী, সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকতাকারীকে গ্রেফতার কালীগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যুবকের মৃত্যু কালীগঞ্জে জিয়াউর রহমান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন ভাঙ্গারী স্পোর্টিং ক্লাব টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে কালীগঞ্জে লক্ষ্মীপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতা বাবলু মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ ছাত্র আরিফ ১৮ দিনেও মিলেনি সন্ধান

চা বাগানে শ্রমিকের ঘর নির্মাণের নামে টিলা কাটার অভিযোগ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০১:৩৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ মে ২০২৩
  • / 388 বার পড়া হয়েছে

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার গাজিপুর চা-বাগানে শ্রমিকের গৃহ নির্মাণের নামে টিলাকাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত এক সপ্তাহ থেকে এমন কাজটি করছে বাগান কর্তৃপক্ষ। পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন এব্যাপারে নির্বাক ভূমিকায় কোন রকম কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বাগান কর্তৃপক্ষের অগোচরেই এমন কাজ করেছেন বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি অশোক কুমার গোয়ালা বাবলু এবং বাগান হাসপাতালের ড্রেসার দ্বীপ নারায়ণ গোয়ালা।
গাজিপুর চা-বাগান মেইন ফটকের উত্তর পাশে স্টাফ কোয়ার্টারের পূর্বে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, ১০-১২ জন বাগান শ্রমিক টিলা কাটার কাজ করছেন। আলাপ চারিতায় মাটি কাটায় নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, এখানে শ্রমিকের গৃহ নির্মাণ করা হবে। যার কারণে বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি অশোক কুমার গোয়ালা বাবলু এবং বাগান হাসপাতালের ড্রেসার দ্বীপ নারায়ণ গোয়ালা তাদেরকে দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ১০-১২ জন শ্রমিক দিয়ে টিলা কাটা হলেও কেউ বাঁধা দেয়নি। স্থানীয় কিছু লোক মৌখিকভাবে বাঁধা দিলেও কোনো কাজ হয়নি। সমতল ভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে টিলাটিকে।
বাগানের কয়েকজন শ্রমিক (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) জানান, যাঁরা মাটি কাটাচ্ছেন, তাঁরা বাগানের প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কোন প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে গাজিপুর চা-বাগান হাসপাতালের ড্রেসার দ্বীপ নারায়ণ গোয়ালা জানান, আমার ছোট ভাই জায়গাটি বাগান সভাপতি বাবলু গোয়ালার কাছ থেকে নিয়েছে। তাই সভাপতির অনুমতি নিয়েই টিলাটি একটু ড্রেসিং করে নিচ্ছি। যাতে ঘর বানিয়ে বসবাস করা যায়। এখন বাগান ম্যানেজমেন্ট আপত্তি করায় কাজ বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে গাজিপুর চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি অশোক কুমার গোয়ালা বাবলু জানান, শ্রমিকের ঘর তৈরি করার জন্য টিলার ড্রেসিং করা হচ্ছে। অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, এরকমতো অহরহ ঘর হচ্ছে, কেউতো কোনদিন অনুমতি নেয়নি।
এবিষয়ে গাজিপুর চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক জাবের আলী জানান, টিলা কাটা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ, সেটা আমরাও জানি। বাগান কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে তারা দুঃসাহসিক কাজটি করে। আমরা খবর পেয়ে সাথে সাথে কাজটি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছি এবং তাদেরকে শোকজ করেছি। কি কারণে টিলা কাটা হচ্ছে বলে কারন দর্শিয়ে লিখিত আকারে উত্তর দিতে বলা হয়েছে।

ট্যাগস :

এই নিউজটি শেয়ার করুন

চা বাগানে শ্রমিকের ঘর নির্মাণের নামে টিলা কাটার অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০১:৩৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ মে ২০২৩

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার গাজিপুর চা-বাগানে শ্রমিকের গৃহ নির্মাণের নামে টিলাকাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত এক সপ্তাহ থেকে এমন কাজটি করছে বাগান কর্তৃপক্ষ। পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন এব্যাপারে নির্বাক ভূমিকায় কোন রকম কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বাগান কর্তৃপক্ষের অগোচরেই এমন কাজ করেছেন বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি অশোক কুমার গোয়ালা বাবলু এবং বাগান হাসপাতালের ড্রেসার দ্বীপ নারায়ণ গোয়ালা।
গাজিপুর চা-বাগান মেইন ফটকের উত্তর পাশে স্টাফ কোয়ার্টারের পূর্বে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, ১০-১২ জন বাগান শ্রমিক টিলা কাটার কাজ করছেন। আলাপ চারিতায় মাটি কাটায় নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, এখানে শ্রমিকের গৃহ নির্মাণ করা হবে। যার কারণে বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি অশোক কুমার গোয়ালা বাবলু এবং বাগান হাসপাতালের ড্রেসার দ্বীপ নারায়ণ গোয়ালা তাদেরকে দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ১০-১২ জন শ্রমিক দিয়ে টিলা কাটা হলেও কেউ বাঁধা দেয়নি। স্থানীয় কিছু লোক মৌখিকভাবে বাঁধা দিলেও কোনো কাজ হয়নি। সমতল ভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে টিলাটিকে।
বাগানের কয়েকজন শ্রমিক (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) জানান, যাঁরা মাটি কাটাচ্ছেন, তাঁরা বাগানের প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কোন প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে গাজিপুর চা-বাগান হাসপাতালের ড্রেসার দ্বীপ নারায়ণ গোয়ালা জানান, আমার ছোট ভাই জায়গাটি বাগান সভাপতি বাবলু গোয়ালার কাছ থেকে নিয়েছে। তাই সভাপতির অনুমতি নিয়েই টিলাটি একটু ড্রেসিং করে নিচ্ছি। যাতে ঘর বানিয়ে বসবাস করা যায়। এখন বাগান ম্যানেজমেন্ট আপত্তি করায় কাজ বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে গাজিপুর চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি অশোক কুমার গোয়ালা বাবলু জানান, শ্রমিকের ঘর তৈরি করার জন্য টিলার ড্রেসিং করা হচ্ছে। অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, এরকমতো অহরহ ঘর হচ্ছে, কেউতো কোনদিন অনুমতি নেয়নি।
এবিষয়ে গাজিপুর চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক জাবের আলী জানান, টিলা কাটা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ, সেটা আমরাও জানি। বাগান কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে তারা দুঃসাহসিক কাজটি করে। আমরা খবর পেয়ে সাথে সাথে কাজটি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছি এবং তাদেরকে শোকজ করেছি। কি কারণে টিলা কাটা হচ্ছে বলে কারন দর্শিয়ে লিখিত আকারে উত্তর দিতে বলা হয়েছে।