ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“বিএনপির আন্দোলনে উচ্ছ্বাস নেই বুদ্ধিজীবীদের”

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৮:১৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর ২০২২
  • / ৪৬৪ বার পড়া হয়েছে
৯৬

নিজস্ব প্রতিবেদক || বিএনপির আন্দোলনে উচ্ছ্বাস নেই বুদ্ধিজীবীদের।

আন্দোলন নিয়ে বিএনপি বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করলেও একটি বিষয়ে রহস্যের ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণ হলো বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীদের নীরবতা এবং অনুপস্থিতি।

বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, বিএনপি যখনই কোনো আন্দোলন গড়ার চেষ্টা করে তখনই বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এক ধরনের উচ্ছ্বাস দেখা যায় এবং বিএনপি নেতাদের চেয়েও তারা বেশি আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে বিভিন্ন সময়ে সরব থাকাদের মধ্যে রয়েছেন:

শফিক রেহমান: শফিক রেহমান দীর্ঘদিন ধরেই নীরব। বর্তমানে তিনি এক ধরনের নীরবতা পালন করছেন। তাকে কেউ খুব একটা দেখছে না এবং বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও তিনি খুব একটা সাক্ষাৎ করছেন না।

মাহমুদুর রহমান: দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এখন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। তিনি নিজেকে মজলুম সাংবাদিক দাবি করেন। বিএনপি যখনই আন্দোলন সংগ্রাম করে তখনই তাকে অত্যন্ত সরব দেখা যায়। এবার অবশ্য বিএনপির আন্দোলনে তিনি নীরব। দুই একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি কিছু সাক্ষাৎকার দেন বটে, তবে ইদানীং বিএনপির কোনো কর্মসূচির ব্যাপারে তার কোনো মতামত পাওয়া যাচ্ছে না।

ফরহাদ মজহার: বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত ফরহাদ মজহার নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে গুম নাটক করেছিলেন, কিন্তু এই নাটক শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে গেছে। ঐ ঘটনার পর থেকে তিনি অনেকটাই নীরব। কিছুদিন আগে করোনার টিকা নিয়ে তাকে কিছুটা সরব দেখা গিয়েছিল। কিন্তু তারপর আবার তিনি অন্তরালে চলে গেছেন। বিএনপি নেতারাও তাকে খুব একটা পাত্তা দেন না। বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও তার তেমন একটা যোগাযোগ নেই। বিভিন্ন মহল বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন বটে কিন্তু সেই যোগাযোগে বিএনপির নেতারা তাকে খুব একটা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেনি। ফলে নিজেকে তিনি দূরে সরিয়ে রেখেছেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী: ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে সর্বশেষ সরব ব্যক্তি ছিলেন। তাকে প্রায় সবসময় বিএনপির পক্ষে বিভিন্ন উপদেশ দিতে দেখা গেছে। সরকারের কঠিন সমালোচনা করতেও তিনি কখনো কার্পণ্য করতেন না। কিন্তু গত চার মাস সময় ধরে বিএনপির সঙ্গে তার এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তিনি যখন পদ্মাসেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন, তারপর থেকেই বিএনপি নেতারা তাকে এড়িয়ে চলছে। অনেকে তাকে এখন ক্ষমতাসীনদের এজেন্ট হিসেবে মনে করে। এসব কারণে বিএনপির সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

এই কয়েকজন আলোচিত বুদ্ধিজীবীরা দুঃসময়ে বিএনপির পাশে ছিলেন। কিন্তু এখন যখন বিএনপি আন্দোলন করছে, তখন বিএনপি নিজেদের বুদ্ধিজীবীমুক্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

এই নিউজটি শেয়ার করুন

“বিএনপির আন্দোলনে উচ্ছ্বাস নেই বুদ্ধিজীবীদের”

প্রকাশের সময় : ০৮:১৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর ২০২২
৯৬

নিজস্ব প্রতিবেদক || বিএনপির আন্দোলনে উচ্ছ্বাস নেই বুদ্ধিজীবীদের।

আন্দোলন নিয়ে বিএনপি বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করলেও একটি বিষয়ে রহস্যের ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণ হলো বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীদের নীরবতা এবং অনুপস্থিতি।

বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, বিএনপি যখনই কোনো আন্দোলন গড়ার চেষ্টা করে তখনই বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এক ধরনের উচ্ছ্বাস দেখা যায় এবং বিএনপি নেতাদের চেয়েও তারা বেশি আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে বিভিন্ন সময়ে সরব থাকাদের মধ্যে রয়েছেন:

শফিক রেহমান: শফিক রেহমান দীর্ঘদিন ধরেই নীরব। বর্তমানে তিনি এক ধরনের নীরবতা পালন করছেন। তাকে কেউ খুব একটা দেখছে না এবং বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও তিনি খুব একটা সাক্ষাৎ করছেন না।

মাহমুদুর রহমান: দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এখন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। তিনি নিজেকে মজলুম সাংবাদিক দাবি করেন। বিএনপি যখনই আন্দোলন সংগ্রাম করে তখনই তাকে অত্যন্ত সরব দেখা যায়। এবার অবশ্য বিএনপির আন্দোলনে তিনি নীরব। দুই একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি কিছু সাক্ষাৎকার দেন বটে, তবে ইদানীং বিএনপির কোনো কর্মসূচির ব্যাপারে তার কোনো মতামত পাওয়া যাচ্ছে না।

ফরহাদ মজহার: বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত ফরহাদ মজহার নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে গুম নাটক করেছিলেন, কিন্তু এই নাটক শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে গেছে। ঐ ঘটনার পর থেকে তিনি অনেকটাই নীরব। কিছুদিন আগে করোনার টিকা নিয়ে তাকে কিছুটা সরব দেখা গিয়েছিল। কিন্তু তারপর আবার তিনি অন্তরালে চলে গেছেন। বিএনপি নেতারাও তাকে খুব একটা পাত্তা দেন না। বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও তার তেমন একটা যোগাযোগ নেই। বিভিন্ন মহল বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন বটে কিন্তু সেই যোগাযোগে বিএনপির নেতারা তাকে খুব একটা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেনি। ফলে নিজেকে তিনি দূরে সরিয়ে রেখেছেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী: ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে সর্বশেষ সরব ব্যক্তি ছিলেন। তাকে প্রায় সবসময় বিএনপির পক্ষে বিভিন্ন উপদেশ দিতে দেখা গেছে। সরকারের কঠিন সমালোচনা করতেও তিনি কখনো কার্পণ্য করতেন না। কিন্তু গত চার মাস সময় ধরে বিএনপির সঙ্গে তার এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তিনি যখন পদ্মাসেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন, তারপর থেকেই বিএনপি নেতারা তাকে এড়িয়ে চলছে। অনেকে তাকে এখন ক্ষমতাসীনদের এজেন্ট হিসেবে মনে করে। এসব কারণে বিএনপির সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

এই কয়েকজন আলোচিত বুদ্ধিজীবীরা দুঃসময়ে বিএনপির পাশে ছিলেন। কিন্তু এখন যখন বিএনপি আন্দোলন করছে, তখন বিএনপি নিজেদের বুদ্ধিজীবীমুক্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।