ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ধামইরহাটে শারদীয় দুর্গাপূজার বিভিন্ন পুজো মন্ডপ পরিদর্শন করেন  সাবেক এমপি সামসুজ্জোহা খান  কালীগঞ্জে ভোক্তা অধিকার আইনে দুই প্রতিষ্ঠানে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা, অবৈধ স্থাপনার সংযোগ বিচ্ছিন্ন কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ জনের কারাদণ্ড মন্দিরের সভাপতিও জানেন না, তবু বরাদ্দের চাল উত্তোলন! কক্সবাজারে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ধামইরহাটে সমন্বিত পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান  ​ভোলাহাট সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান ৪৩ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১০ জনের ৮ জনই একই পরিবারের বেলাবোতে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী রশিদুল ইসলাম লাল মিয়ার নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত মানবতার সেবায় আমরা ঐক্য’ পরিবারের পক্ষ থেকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা ও সম্প্রীতির বার্তা

মন্দিরের সভাপতিও জানেন না, তবু বরাদ্দের চাল উত্তোলন!

মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল
মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৩২:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 17 বার পড়া হয়েছে

মন্দিরে পূজা হয়নি, অথচ সরকারি বরাদ্দের তালিকায় নাম! সেই নামেই উত্তোলন করা হয়েছে ৬০০ কেজি করে জিআর চাল। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় এমনই অভিযোগ উঠেছে দুটি মন্দিরের নামে। সংশ্লিষ্ট মন্দিরের সভাপতিরা বলছেন, তাঁরা কিছুই জানেন না, কোনো স্বাক্ষরও করেননি। অভিযোগ, উত্তোলন করা চাল বিক্রিও করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাইদুল ইসলাম ও বেতগাড়ি ইউনিয়ন পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ কমিটির সদস্যদের ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
‎
‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের বরাদ্দ তালিকায় বেতগাড়ী ইউনিয়নের ২১টি পূজামণ্ডপের বিপরীতে মোট ১২ হাজার ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছে পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দির এবং পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী ও দুর্গা মন্দির। প্রতিটির নামে বরাদ্দ ৬০০ কেজি করে।
‎
‎পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দিরের সভাপতি স্বাধীন চন্দ্র রায়ের দাবি, এ বরাদ্দের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। কোনো কাগজে স্বাক্ষরও করেননি। তাঁর ভাষ্য,ইউনিয়ন পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের দায়িত্বশীলরা এসব কাজ করেছেন বলে পরে জানতে পেরেছেন।
‎
‎পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী ও দুর্গা মন্দিরের সভাপতি পরিমল চন্দ্র রায় জানান, ২০২৫ সাল থেকে তাঁদের মন্দিরে কোনো পূজা হয়নি। এবারও হয়নি। তাহলে মন্দিরের নামে চাল বরাদ্দ ও উত্তোলন হলো কীভাবে—এ প্রশ্ন তুলে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।
‎
‎অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বেলা ১২টার দিকে পিআইওর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে কার্যালয়ে এসে মাইদুল ইসলাম বলেন, “এটা কোনো বিষয় না, এগুলো অটোমেটিক ঠিক হবে।”
‎
‎অন্যদিকে, উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায় বলেন, “এটা ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে ভুল হয়েছে, আমরা ফেরত দেব।”
‎
‎তবে চাল উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত, কোন নথির ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং চাল কোথায় গেছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
‎
‎গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, বিষয়টি জানার পর পর্যবেক্ষণ করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পূজা উদ্‌যাপন কমিটিকে তলব করা হয়েছে। বরাদ্দ ও চাল উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎
‎পূজা হয়নি, অথচ চাল বরাদ্দ ও উত্তোলনের অভিযোগ—সরকারি সহায়তার এই চাল গেল কোথায়? এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে প্রশাসন।

এই নিউজটি শেয়ার করুন

মন্দিরের সভাপতিও জানেন না, তবু বরাদ্দের চাল উত্তোলন!

প্রকাশের সময় : ০৭:৩২:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

মন্দিরে পূজা হয়নি, অথচ সরকারি বরাদ্দের তালিকায় নাম! সেই নামেই উত্তোলন করা হয়েছে ৬০০ কেজি করে জিআর চাল। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় এমনই অভিযোগ উঠেছে দুটি মন্দিরের নামে। সংশ্লিষ্ট মন্দিরের সভাপতিরা বলছেন, তাঁরা কিছুই জানেন না, কোনো স্বাক্ষরও করেননি। অভিযোগ, উত্তোলন করা চাল বিক্রিও করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাইদুল ইসলাম ও বেতগাড়ি ইউনিয়ন পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ কমিটির সদস্যদের ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
‎
‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের বরাদ্দ তালিকায় বেতগাড়ী ইউনিয়নের ২১টি পূজামণ্ডপের বিপরীতে মোট ১২ হাজার ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছে পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দির এবং পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী ও দুর্গা মন্দির। প্রতিটির নামে বরাদ্দ ৬০০ কেজি করে।
‎
‎পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দিরের সভাপতি স্বাধীন চন্দ্র রায়ের দাবি, এ বরাদ্দের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। কোনো কাগজে স্বাক্ষরও করেননি। তাঁর ভাষ্য,ইউনিয়ন পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের দায়িত্বশীলরা এসব কাজ করেছেন বলে পরে জানতে পেরেছেন।
‎
‎পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী ও দুর্গা মন্দিরের সভাপতি পরিমল চন্দ্র রায় জানান, ২০২৫ সাল থেকে তাঁদের মন্দিরে কোনো পূজা হয়নি। এবারও হয়নি। তাহলে মন্দিরের নামে চাল বরাদ্দ ও উত্তোলন হলো কীভাবে—এ প্রশ্ন তুলে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।
‎
‎অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বেলা ১২টার দিকে পিআইওর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে কার্যালয়ে এসে মাইদুল ইসলাম বলেন, “এটা কোনো বিষয় না, এগুলো অটোমেটিক ঠিক হবে।”
‎
‎অন্যদিকে, উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায় বলেন, “এটা ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে ভুল হয়েছে, আমরা ফেরত দেব।”
‎
‎তবে চাল উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত, কোন নথির ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং চাল কোথায় গেছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
‎
‎গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, বিষয়টি জানার পর পর্যবেক্ষণ করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পূজা উদ্‌যাপন কমিটিকে তলব করা হয়েছে। বরাদ্দ ও চাল উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎
‎পূজা হয়নি, অথচ চাল বরাদ্দ ও উত্তোলনের অভিযোগ—সরকারি সহায়তার এই চাল গেল কোথায়? এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে প্রশাসন।